রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে : বরের বাবাকে লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮

মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলমানদের ওপর পরিচালিত সেনা নির্যাতন ও গণহত্যার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করায় বরের বাবাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ টাকা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে রিট খারিজ করে এই আদেশ দেন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চারগ্রামের বাবুল হোসেন রিটটি দায়ের করেছিলেন; তাকেই এখন জরিমানা দিতে হবে। বাবুলের ছেলে শোয়াইব হোসেন জুয়েল রোহিঙ্গা নারী রাফিজাকে বিয়ে করেছিলেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এবিএম হামিদুল মিসবাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশি ছেলেদের সাথে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা মেয়েদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কতিপয় নিকাহ রেজিস্ট্রার অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকায় ‘বিশেষ এলাকা’গুলোতে (কক্সবাজার, বান্দরবান,রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম জেলা) নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বর-কনে উভয়ে বাংলাদেশি নাগরিক কি না বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়ে (জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে) উক্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল নিকাহ রেজিস্ট্রারদের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ বিষয়ে গাফিলতি হলে দায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাবুল হোসেন রিটে ওই নির্দেশনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। কারণ ওই নির্দেশনার কারণে বাবুল হোসেনের ছেলের বিয়ের রেজিস্ট্রশন করা যাচ্ছিল না।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল অ্যাডবোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুসারে বিদেশিরা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারে না। এ ছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে রোহিঙ্গাদের বিয়ে করা যাবে না। কিন্ত এখানে আবেদনকারীরা দু’টি অপরাধ করেছেন। ওই মেয়েকে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। আবার বিয়ে রেজিষ্ট্রশন করতে হাইকোর্টে রিটও করেছেন। এ কারণে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ টাকা ৩০ দিনের মধ্যে না দিলে ছেলের বাবা বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জের চারিগ্রামের শোয়াইব হোসেন জুয়েল যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। গেল সেপ্টেম্বরে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে একটি মসজিদে নিয়ে রাফিজা নামে ১৮ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা কিশোরীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর থেকে রাফিজাকে নিয়ে পালিয়ে আছেন জুয়েল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে জাতিগত নিধন শুরু হওয়ার পর ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

এফএইচ/এনএফ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :