‘বয়স কখনো সাজা কমার কারণ হতে পারে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:৩০ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮
‘বয়স কখনো সাজা কমার কারণ হতে পারে না’

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাজা কমানোর ক্ষেত্রে বৃদ্ধ বয়স কোনো কারণ হতে পারে না বলে রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার মৌলভীবাজারের শামসুল হোসেন তরফদারসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেন।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মোট ২০২ পৃষ্ঠার রায় ছিল যার সংক্ষিপ্ত অংশ পড়েন বিচারকরা।

আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সাংবাদিক জানান প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।

তিনি জানান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্যাতন, হত্যা ও গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ‘বৃদ্ধ বয়স কখনো সাজা (দণ্ড) কমার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কারণ হতে পারে না’।

মৌলভীবাজারের রাজনগরের পাঁচ আসামির রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামির রায়ে দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

রায়ের পরে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, আদালত রায়ে দুটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এক হচ্ছে, যখন একাত্তরের ঘটনা বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে তখন ১৯৭১ এর ইতিহাস মূর্তমান হয়ে ওঠে। সমাজে সবার সামনে। তার মানে হচ্ছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের যে অসমাপ্ত ইতিহাস তা এ বিচার মাধ্যমে ওঠে আসছে।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বৃদ্ধ বয়স দণ্ড কমানোর ক্ষেত্রে কোনো কারণ হতে পারে কি-না তার প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু আজকে রায়ে ট্রাইব্যুনাল সুস্পষ্টভাবে বলেছে- বৃদ্ধ বয়স কখনো দণ্ড কমানোর ক্ষেত্রে কোনো কারণ হতে পারে না।

একাত্তর সালে যে অপরাধ করেছে সে অপরাধ এতটাই ঘৃণ্য, এতটাই ভয়াবহ তার জন্য বৃদ্ধ বয়স কোনো যৌক্তিক কারণ হতে পারে না, তাকে (আসামিকে) কম দণ্ড দেবার জন্য।

এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীর বয়স ৬৩ এবং নেসার আলীর বয়স ৭৫ বছর। এছাড়া আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইউনুছ আহমদ এর বয়স ৭১ বছর, শামছুল হোসেনের বয়স ৬৫ এবং মোবারকের বয়স ৬৬ বছর।

এফএইচ/এমবিআর/আরআইপি