‘সাজানো’ ভ্রাম্যমাণ আদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:৩৭ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮
‘সাজানো’ ভ্রাম্যমাণ আদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্টে তলব

ফৌজদারি মামলায় ‘পুলিশ হেফাজতে থাকা’ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা জানাতে ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) চারজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

সেইসঙ্গে রুল জারি করা হয়েছে। রুলে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা সাজানো বলে কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং যারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ওই রুলে রিট আবেদনকারীকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচ বিবাদীর কাছে। সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

যে চারজনকে তলব করা হয়েছে তারা হলেন- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) মাহবুব আলম, ওসি মো. শাহজাহান, এসআই হেলাল খান ও ওয়াসিম। ২৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

সাজানো ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে-এমন দাবি করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীনের এক রিটের শুনানি নিয়ে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।

দুই পুড়িয়া গাঁজা পাওয়ার অভিযোগে আট মাসের সাজা দেয়া হয়েছিল বেলাল উদ্দিনকে। রিট আবেদনকারী এ বেলালকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়েছিল।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, পুলিশের এক জব্দ তালিকায় দেখা যায়, বেলাল উদ্দিনকে অন্য একটি মামলায় ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর গ্রেফতার করে পরদিন আদালতে চালান করে পুলিশ। ১৩ অক্টোবর রাত ৯টায় তার কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় বেলালকে আট মাসের জেল দেন ইউএনও পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

‘কিন্তু ১৪ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ অনুযায়ী দেখানো হয়, ওইদিন দুপুর ১২টা ১০মিনিটে দুই পুরিয়া গাঁজাসহ তার গ্রামের বাড়ি থেকে ধরা হয়। তাই সাজানো ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ চার জনকে তলব করেছেন আদালত। সঙ্গে সঙ্গে রুল জারি করেছেন আদালত-’,বলেন মনজিল মোরসেদ।

এফএইচ/জেডএ/আইআই