অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সুরক্ষায় ৩২ ধারায় যুক্ত হবে উপধারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৮:৩৯ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সুরক্ষায় প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় একটি উপধারা সংযোজন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ এ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়সঙ্গত কারণ থাকলে, দরকার হলে জনস্বার্থে ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ৩২ ধারায় একটি সাব সেকশন অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

সৎ উদ্দেশ্যে রিপোর্টিংয়ে ৩২ ধারায় পড়বেন না

‘নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুরাতন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইননের ৫৭ ধারার চেয়ে কঠিন। এই আইন দ্বারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে কি না’ জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনি একটা তথ্য নিয়ে গেলেন এটা কিন্তু গুপ্তচরবৃত্তি নয়। একটা অপরাধের জন্য মূল বিষয় হলো অপরাধমূলক মন। আপনি রিপোর্টিং করলেন, কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য সৎ। এক্ষেত্রে আপনি ৩২ ধারায় পড়বেন না।

তিনি বলেন, ৫৭ ধারার আইনটি আর থাকবে না। যে কোনো অপরাধে যাকে খুশি তাকে এ আইনটির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধগুলোকে অনেক স্পষ্ট করা হয়েছে। ছোট অপরাধের জন্য ন্যূনতম সাজা। বড় অপরাধের জন্য বড়রকম সাজা। নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য কোনো বাধা হবে না। এ আইন সাংবাদিকদের টার্গেট করে করা হয়নি।

৫৭ ধারা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। জাতীয় সংসদে আইনটি পাস না হলেও আইনটির কয়েকটি ধারা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে সাংবাদিকদের মধ্যে। আইনটি নিয়ে সভা-সেমিনারও করা হচ্ছে।

সরকার নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রণ করছে, এটা সম্পূর্ণ অসত্য

‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা যে আদালতে পরিচালতি হচ্ছে সেই আদালত সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে’ বিএনপির এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এ মামলা নিয়ে তারা (বিএনপি) ১০ থেকে ১৫ বার উচ্চ আদালতে গেছে। প্রত্যেকবারই তারা হেরেছে। সেখানে কোথা থেকে সরকার নাক গলালো সেটা আমি বুঝতে পারলাম না।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা হবে ৮ ফেব্রুয়ারি। এ দিনটি নিয়ে রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা চলছে। বিএনপি অভিযোগ করছে, নিম্ন আদালত সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘টানটান উত্তেজনা চলতেই পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন যে অভিযোগ করেছে, সরকার নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রণ করছে, এটা সম্পূর্ণ অসত্য।’

মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২০০৮ সালে। যখন ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন। সবাই বলে এটা আধা সামরিক সরকার ছিল।

তিনি বলেন, তখন যে সেনাবাহিনীর প্রধান ছিল মঈন ইউ আহমেদ, তিনিও খালেদা জিয়ার হ্যান্ড পিক ছিল। সেই মামলা তিনিই করে গেছেন। তারপর দুদক সেটার তদন্ত করেছে। তারাই অভিযোগ দিয়েছে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই অভিযোগের কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে প্রেস রিলিজটা সুপ্রিম কোর্ট থেকে দেয়া হয়েছে সেখান থেকেই আমরা জানতে পারি দুর্নীতির ১১টি অভিযোগ ছিল। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তার মানে এ অভিযোগ যখন হয়েছে, যেই কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান বা তদন্ত করা উচিত তারা করবে।

মিট দ্যা প্রেসে এলআরএফের সভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে সাবেক সভাপতি এম. বদি-উজ-জামান, সহ-সভাপতি মাশহুদুল হক, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম পান্নু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এইউএ/এফএইচ/জেডএ/এমএস