ক্যামব্রিজ স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ছবি-ফাইল

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার রাজধানীর উত্তরখানের ক্যামব্রিজ হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তানভীর হোসেনসহ পাঁচজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজধানীর উত্তরখান থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি।অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজধানীর উত্তরখান থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস নামঞ্জুর করে প্রত্যেককে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার ভোরে প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে উত্তরখান ও গাজীপুর এলাকা থেকে ৪ শিক্ষকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। আসামিদের মধ্যে অন্যতম তানভীর হোসেন (২৯) উত্তরখানের ক্যামব্রিজ হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। র‌্যাবের দাবি, তানভীর ফাঁস হওয়া প্রশ্ন নিয়ে দ্রুত সমাধান করে দিতেন।

তানভীর হোসেন ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই (২৯), মো. সজীব মিয়া (২৬), মো. এনামুল হক (২৭), মো. ইব্রাহিম (২১)। এদের মধ্যে মো. সজীব মিয়া ক্যামব্রিজ হাই স্কুলের অ্যাকাউন্টিং বিষয়ের শিক্ষক, মো. ইব্রাহিম এবং মো. এনামুল হক সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের শিক্ষক।

র‌্যাব জানায়, হাসানুর রহমান ওরফে রকি ভাই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার ফেসবুক আইডি ‘রকি ভাই’। প্রশ্নপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তার বেশ খ্যাতি আছে। তিনি ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন। তিনি গত ৪ বছর ধরে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতারকৃত হাসান পরীক্ষার শুরু হওয়ার ২ মাস আগে থেকেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো’তে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার নম্বর আইডি দিয়ে প্রচারণা করতে শুরু করেন। প্রচারণায় উল্লেখ থাকে যে, যারা প্রশ্ন পেতে চায় তারা ২০০০ টাকার বিনিময়ে তার গ্রুপের সদস্য হতে পারে।

পরীক্ষার দিন ভোরে হাসানুর রহমান ফাঁস হওয়া প্রশ্ন এসব শিক্ষকদের দিতেন এবং শিক্ষকরা খুব কম সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র সমাধান করে হাতে লেখা উত্তরপত্র সরবরাহ করতেন।

র‌্যাব জানায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে আসামিরা। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে, তারা ব্লাড ডোনেশন-১, ব্লাড ডোনেশন-২ এবং ব্লাড ডোনেশন-৩ নামে গ্রুপ খুলে যাতে কেউ একে প্রশ্ন ফাঁসের গ্রুপ মনে না করতে পারে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল সেট ও ১টি ট্যাব উদ্ধার করা হয়ছিল। ট্যাবে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ভেতরে এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।

জেএ/এআরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :