লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ১৭ কোটি টাকা প্রদানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মোহনায় ২০০৩ সালে এমবি নাসরিন-১ লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২১ পরিবারকে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের ঘোষণা করা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের স্বাক্ষরের পর ১৩৩ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

বুধবার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি অবগত করতে ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জানান, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

এর আগে গত বছরের ৫ জুন চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মোহনায় এমবি নাসরিন-১ লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২১ পরিবারকে ১৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

ওইদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার ও ইশরাত হাসান। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, কামরুল হক সিদ্দিকী ও সুব্রত চৌধুরী।

গত ২৪ মে এ বিষয়ে শুনানি শেষ হয়।

আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, ২০০৩ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় এমবি নাসরিন-১ লঞ্চডুবিতে নিহত হন ১১০ জন, নিখোঁজ হন ১৯৯। ওই নৌ দুর্ঘটনায় লঞ্চটির মালিক এবং মাস্টারও নিহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় লঞ্চটির নকশা তদারকি দলের (সুপারভাইজার প্যানেল) দুই সদস্যের এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর করে কারাদণ্ড হয়। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স) অনুযায়ী গঠিত নৌ আদালতে এ রায় হয়।

এরপর একই বছর চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ জনের তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী নৌ-দুর্যোগ ট্রাস্টি বোর্ড নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। যার পরিমাণ ৭০ লাখ টাকার উপরে।

নিহতদের পরিবারকে দেয়া ক্ষতিপূরণ অপ্রতুল দাবি করে ২০০৪ সালে ঢাকার তৃতীয় জেলা জজ আদালতে নিহত ১২১ জনের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট)।মামলায় ২৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।

মামলায় নৌ-সচিব, সমুদ্র পরিবহন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক, বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহনসহ ২১ জনকে বিবাদী করা হয়। ২০১২ সালে সেই মামলা বদলি হয়ে ঢাকার ৭ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ হয়।

পরে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৭ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত।

পরবর্তীতে বিবাদীরা জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেয়ার জন্য আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন জানান। আদালত পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন নামঞ্জুর করেন।

নিম্ন আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএসহ বিবাদীরা ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন দায়ের করেন।

ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় কেন বাতিল ও রদ করা হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় আসে।

এফএইচ/এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :