আর কোনো সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্তি নয় : সরকারকে হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৫০ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৮
আর কোনো সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্তি নয় : সরকারকে হাইকোর্ট

যেসব অর্পিত সম্পত্তির আইনগত দাবিদার নেই সেসব সম্পদ শুধুমাত্র মানবিক উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে কোনো সম্পত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার কোনো উদ্যোগ না নিতেও সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শুধুমাত্র ১০ ধারার মামলা নিষ্পত্তির জন্য এক বা একাধিক বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ট্রাইব্যুনালকে আইনে বেধে দেয়া সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিষয়ের এক মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব নির্দেশনা এসেছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বরে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত ৫টি পর্যবেক্ষণ ও ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব অর্পিত সম্পত্তির আইনগত দাবিদার নেই সে সম্পদ শুধুমাত্র মানবিক উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করতে হবে। যেসব সম্পদ সরকারের অনুকূলে অর্পিত হয়েছে, সেসব সম্পদ ব্যবহারের জন্য আইন করতে হবে। যে সব সম্পদ আইনগত অধিকারীকে ফেরত দেয়া সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে আইনগত দাবিদারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে আইন করতে হবে।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ১৯৭৪ সালের শত্রু সম্পত্তি আইন (বিলুপ্ত) ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল। ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চের পর বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে অর্পিত সম্পত্তি বা শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার কাজ সম্পূর্নরূপে বেআইনি। এ ধরনের বেআইনি কাজে জড়িতরা দায়ী থাকবে।

২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বরে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পরে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। রায়ে আদালত ৫টি পর্যবেক্ষণ ও নয়দফা নির্দেশনা দিয়ে এ রায় প্রকাশ করা হয়।

রাজধানীর মগবাজারের ইস্টার্ন রোকেয়া টাওয়ারের (২/৪০৪) বাসিন্দা আবদুল হাইয়ের করা এক রিট আবেদনে রায় ঘোষণা করেছিলেন আদালত। অর্পিত সম্পত্তির আইনের কয়েকটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।

এফএইচ/এনএফ/পিআর