রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন : স্বজন পরিবহনের বাসটি চায় মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৩ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৮
রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন : স্বজন পরিবহনের বাসটি চায় মালিক

তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্নের স্বজন পরিবহনের বাসটি নিজের জিম্মায় নেয়ার আবেদন করেছেন পরিবহনটির মালিক। আদালত বাসটির মালিকানা যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (৯ এপ্রিল) পরিবহনটির মালিক আসাদুজ্জামানের (রাজু) নিজ জিম্মায় নেয়ার জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে এ আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে পরিবহনটির মালিকানা যাচাই-বাছাই করে বিআরটিএকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মকবুল রহমান।

এর আগে ৮ এপ্রিল দুইদিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আফতাব আলী। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন তিনি। অপরদিকে তাদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৫ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তাদের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুই চালক হলেন- বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন পরিবহনের চালক মো. খোরশেদ। এদের দুজনকে বুধবার গ্রেফতার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল দুপুরে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের বাসটি বিআরটিসি বাসটির গা ঘেঁষে অতিক্রম করে। দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ওই ঘটনার পর পথচারীরা রাজীবকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজীবের ডান হাত কুনইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আফতাব আলী জানান, ঘটনার পরপরই স্বজন পরিবহনের চালক বাস রেখে পালিয়ে যায়। পরে বুধবার দোতালা বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক মো. খোরশেদকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজীবের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার টাইপ করে তিনি নিজের এবং ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতেন বলে রাজীবের মামা জাহিদুল জানিয়েছেন।

ওই ঘটনায় রাজীব হোসেনকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে গত বুধবার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং তার কৃত্রিম হাত প্রতিস্থাপন করা হলে তার খরচও দুই বাস মালিক কর্তৃপক্ষকে বহন করতে আদেশ দেন আদালত।

জেএ/বিএ