শিশু ধর্ষণ মামলায় জালিয়াতি করে নেয়া জামিন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ২৩ মে ২০১৮

গাজীপুরে ১০ বছরের এক শিশু ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন আবেদনে জালিয়াতি ধরা পরায় হাইকোর্ট ওই আসামির জামিন বাতিল করেছেন। একইসঙ্গে জামিন আবেদনে উল্লেখিত আইনজীবী ও তদবিরকারিকে তলব করা হয়েছে।

বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরওয়ার কাজল।

তিনি জানান, গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নয়নপুর গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে মো.রবিউল ইসলামকে ওই জামিন আবেদনকারীর তদবিরকারক হিসেবে দেখানো হয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবী হিসেবে দেখানো হয়েছে মো. জামাল উদ্দিনকে। কিন্তু জামালের যে আইডি দেখানো হয়েছে সেই আইডিতে আসল আইনজীবী হচ্ছেন মো. হারুন অর রশীদ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার শ্রীপুরের রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুখানিয়া গ্রামে ওই শিশুকে ঘর ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে নিয়ে প্রবাস ফেরত প্রতিবেশী বিল্লাল ভূঁইয়া (৪৫) ধর্ষণ করে। ধর্ষক বিল্লাল ভূঁইয়া একই গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে। তার স্ত্রী ও ছেলে বিদেশে থাকে। পরে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দিয়ে শিশুকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। শারীরিক অসুস্থ অনুভব করার এক পর্যায়ে শিশুটি ধর্ষণের কথা তার মা’কে জানায়। পরে শিশুটির মা বিল্লাল ভূঁইয়া (৪৫), তার ভাই দুলাল ভূঁইয়ার ছেলে রুবেল ভূঁইয়া (২২) ও মৃত তাজউদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে (৪৫) আসামি করে মামলা করেন। মামলার মেডিকেল টেস্ট করা হয়।

আইনজীবী জাহিদ সরওয়ার কাজল বলেন, শুরু থেকে বিল্লাল পলাতক ছিল। এর মধ্যে মেডিকেল প্রতিবেদনে (টেস্টে) ধর্ষণের প্রমাণও মিলেছে। মেডিকেল রিপোর্টের পর ১৭ নভেম্বর এ মামলায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। মামলা এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আছে।

এ অবস্থায় চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করে বিল্লাল। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে ২৪ এপ্রিল জামিন আবেদন করে বিল্লাল। ওই আবেদন খারিজ করে দেন গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। পরে আবেদনের পর ৯ মে হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

হাইকোর্টের জামিন আবেদনে বলা হয়, মেয়েটির বয়স ২১। দুইজন একে অপরকে ভালোবাসে। মেয়ের মা সেটি পছন্দ করেন না। ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেনি। কোনো প্রমাণ নেই মেডিকেল সনদে।

জাহিদ সরওয়ার বলেন, জামিনের আদেশ নিম্ন আদালতে যাওয়ার পর জালিয়াতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতে নজরে আসে। জালিয়াতির বিষয়টি পেরে আমাকে জানানো হয়। তারা মেডিকেল সনদ, হাইকোর্টের আইনজীবীর নাম জালিয়াতি করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছে। কিন্তু আসামি এখনো বের হতে পারেনি। সে জেলেই আছে। মামলার তদবিরকারককে তলব করেছেন আগামী রোববার। একইসঙ্গে আগের আদেশ প্রত্যাহার করে আসামির জামিন বাতিল করেছেন।

এফএইচ/জেএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :