ডেসটিনির বিলুপ্তির বিষয়ে আপিলে আদেশ সোমবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ২৭ মে ২০১৮

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড কোম্পানি অবসায়ন বা অবলুপ্তি প্রশ্নে হাইকোর্টের কারণ দর্শানোর নির্দেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল (সোমবার) আদেশ দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ডেসটিনির করা আবেদনের শুনানি শেষে আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ আদেশের এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে আজ ডেসনিটির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ কে এম বদরুদ্দোজা এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

১৫ মে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড কোম্পানিটি অবসায়ন বা অবলুপ্তি করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন করে কোম্পানির পরিচালক লে জে এম হারুন-অর-রশীদ ও ৫ শেয়ার হোল্ডার।

২১ মে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে ২৭ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। সে অনুযায়ী আজ রোববার শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২৮ মে দিন ধার্য করেন আদালত।

হাইকোর্টের আদেশের পর আদেশের পর আইনজীবী এ কে এম বদরুদ্দোজা জানান, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর রেজিস্টার্ড হওয়া কোম্পানিটির ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বর্ষগুলোর বার্ষিক সাধারণ সভা বিলম্বের মার্জনা চেয়ে ওই কোম্পানির পরিচালক লে. জে. এম হারুন-অর-রশীদ ও ৫ শেয়ার হোল্ডার হাইকোর্ট আবেদন করেন।

হারুন-অর-রশীদ ছাড়া বাকি ৫ জন হলেন, কাজী মোহাম্মদ আশরাফুল হক, মো. সাইফুল আলম রতন, সিরাজুম মুনীর, মো. জাকির হোসেন, বিপ্লব বিকাশ শীল। আবেদনে বিবাদি করা হয় জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের রেজিস্টার ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডকে।

বদরুদ্দোজা আরও বলেছিলেন, আইন অনুসারে প্রতি ইংরেজী পঞ্জিকা-বত্সরে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হয়। এতে ব্যর্থ হলে কোম্পানির যে কোন সদস্যের আবেদনক্রমে, আদালত উক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করতে অথবা আহ্বান করার নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত উক্ত সভা আহ্বান অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য যেরূপ সমীচীন বলে বিবেচনা করবে সেইরূপ অনুবর্তী ও আনুষঙ্গিক আদেশ প্রদান করতে পারবে।

এ আইন অনুসারে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু যে ছয়জন আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে ডেসটিনির সভাপতি ও সাবেক সেনা প্রধান হারুন-অর-রশীদ শর্ত সাপেক্ষে জামিনপ্রাপ্ত। জামিনের শর্তছিল- তদন্ত পর্যন্ত তিনি এ কোম্পানির কোনো কার্যক্রমের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক রাখবেন না।

আবেদনে তদন্ত শেষ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলা নাই। ফলে তিনি আবেদন করতে পারেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া তাদের এজিএমের আবেদনে উল্লেখ আছে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানির কোনো অডিট নেই। অডিট রিপোর্ট না থাকলে বার্ষিক সাধারণ সভা হবে কিভাবে?

আবেদনে তারা বলেছেন, দুদকের মামলায় সমস্ত সম্পদ জব্দকৃত এবং সে সম্পদ তত্ত্বাবধানে তত্ত্বাবধায়কও নিয়োজিত আছেন। ফলে কার্যত কোম্পানি হিসেবে এর কোনো কর্মকাণ্ড নেই। এ ছাড়া সাত পরিচালকের মধ্যে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানির পরিচালক রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন জেলে রয়েছেন। চারজন পলাতক। এছাড়া তদন্ত চলাকালে অপর পরিচালক হারুন-অর-রশীদ এ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না, এমন শর্তে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। দুদকের কারণে ছয় বছর ধরে কোম্পানির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। এখন পরিচালক ছাড়া এজিএম হবে কিভাবে?

এ কারণে আদালত এজিএমের বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কোম্পানিটির অবসায়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন বলে জানান এ কে এম বদরুদ্দোজা।

এফএইচ/আরএস/জেআইএম