নিয়োগ জালিয়াতি : ছয়জনের জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮ | আপডেট: ০৮:০৭ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮
ছবি-ফাইল

বিসিএস পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় আরো ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার দুইদিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্ত। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যারা জবানবন্দি দিয়েছেন-বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সুপারিসপ্রাপ্ত ইব্রাহিম, ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আইয়ূব আলী বাঁধন, রাজধানীর অগ্রণী স্কুলের পিওন আনোয়ার হোসেন মজুমদার ও নুরুল ইসলাম।

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরী ছয়জনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর দুজন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

জবানবন্দি দেয়া দুই আসামি হলেন- ডিজিটাল প্রশ্ন ফাঁসে চক্রের মাস্টারমাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস ও ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম।

বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীতে পৃথক অভিযানে সরকারি কর্মকর্তাসহ এই ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে সিআইডি সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর জালিয়াতির মাধ্যমে এই চক্রটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও সরকারি চাকরিতে শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে।

জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া বেশ কয়েকজনের তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত পাঁচদিনের সাঁড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিজিটাল প্রশ্ন ফাঁসের এই চক্রকে গ্রেফতার করা হয়।

মোল্লা নজরুল বলেন, অলিপ কুমার বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড। কয়েক বছরে তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে তিন কোটি টাকা আয় করেছেন। ইব্রাহিম, মোস্তফা ও বাঁধন বিসিএস পরীক্ষাসহ সব নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মূল হোতা। এদের চারজনের প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।

অলিপ, ইব্রাহিম, বাঁধন ও মোস্তফাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের পর আলিয়া মাদরাসা এবং ঢাবির এফ রহমান হলের দুটি কক্ষে বসে অভিজ্ঞদের দিয়ে সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরিক্ষার্থীদের তা সরবরাহ করতো।

আসামিদের মধ্যে ইব্রাহিম বিলাসী জীবনযাপন করতেন। মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের ইব্রাহিম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৬তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য সুপারিসপ্রাপ্ত হন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও তার খুলনা এলাকায় চারতলা বাড়ি ও নড়াইলে ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে। রাজধানীতে রূপালী মানি এক্সচেঞ্জ নামে তার একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোল্লা নজরুল বলেন, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে অভিযান চালানো হয়। এরপর বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানসহ এ পর্যন্ত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেএ/এমআরএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :