যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বন্ধুসুলভ সম্পর্ক : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৩ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুসুলভ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্কের ওপর আস্থা রেখেই সে দেশে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল হলে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমি বারবার একটি কথা বলেছি। আমি আজকেও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুসুলভ সম্পর্ক। ২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধুর এক খুনিকে তারা ফেরত দিয়েছিল। সেখানে এখনও একজন চিহ্নিত খুনি রয়েছে। কিন্তু ২০০১-০৬ পর্যন্ত এসব খুনিদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, সে অনেক আইনের লড়াইয়ের মধ্যে ছিল। তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের স্বার্থে আলোচনারত, তারা কোন আইনিপন্থায় খুনিদের ফিরিয়ে দিতে পারবে।

বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি নুর হোসেন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি কানাডায় আছে। তাদের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। কিন্তু সেখানে নতুন কিছু সমস্যা আছে। সমস্যাটা হচ্ছে, তারা ইতোমধ্যে একটি আইন করেছে। সে আইনটা হচ্ছে, তারা বিশ্বের মৃত্যুদণ্ড সাজার বিরুদ্ধে। নিজেদের দেশে তারা মৃত্যুদণ্ড সাজা বাতিল করেছে এবং বিশ্বের যে কোনো দেশে যদি মৃত্যুদণ্ড সাজা থাকে এবং অপরাধী সে দণ্ড পেলে তাকে সে দেশে ফিরিয়ে দেয় না। সেক্ষেত্রে আমাদের আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। আলোচনাও চলছে। এই প্রতিবন্ধকতা পার হতে পারলেই আমরা নুর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। আর বাকি যেসব খুনিরা আছে তাদের বিষয়ে এখানে কোন বক্তব্য দেবো না। কারণ এটা অত্যন্ত গোপনীয়। আমরা যেভাবে এগোচ্ছি, সেক্ষেত্রে খুনিদের অবস্থান বলে দিলে তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবেন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলব না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, মামলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সাধারণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই মামলাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা জানি, যারা আসামী তারা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন। তারা এ মামলায় কালক্ষেপণের চেষ্টা করছেন। তবু আমরা তাদের কালক্ষেপণ সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই মামলার আসামিদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিচ্ছি।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. মশিউর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা প্রমুখ।

এফএইচ/জেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :