খুলনার আয়কর উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

ভুয়া করদাতা সাজিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা বিভাগীয় আয়কর উপদেষ্টা মো. শহীদুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আগামী ৬ মাসের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব মামলাটি বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আদালত। ফলে বিচারিক আদালতে চলমান এ আয়কর উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এ সংক্রান্ত আগের জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তা খারিজ করে আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। তবে এ সময় শহীদুল আলমের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, খুলনা আয়কর বিভাগের আয়কর উপদেষ্টা মো. শহীদুল আলম অসৎ উদ্দেশ্যে আয়কর নথি থেকে প্রকৃত করদাতার নাম অজ্ঞাত রেখে ভুয়া ওকালতনামার মাধ্যমে খুলনার তুলাপট্টির মেসার্স জহুরুল হককে খুলনার প্রতিনিধি সাজিয়ে করদাতার পক্ষে কাগজপত্র দাখিল, নোটিশ গ্রহণ ও রিফান্ড ভাউচার মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ১১ হাজার ৫৭৯ টাকা গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে মো. নাজির হোসেন নামে এক ভুয়া ব্যক্তিকে জহুরুল হক সাজিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের খুলনা নিউমার্কেট শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে চলতি হিসাব ও অন্যান্য হিসাব থেকে টাকা আত্মসাৎ করেন।

পরে বিষয়টি তদন্ত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা আবদুল্লা আল জাহিদ। তদন্ত শেষে মো. শহীদুল আলমসহ তিনজনকে আসামি করে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় ২০০১ সালের ৩ আগস্ট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করলে মো. শহীদল আলম হাইকোর্টে রিভিশন মামলা (মামলা বাতিল চেয়ে) করেন।

সেই রিভিশন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মো. শহীদুল আলমের মামলা বাতিলের বিষয়ে ৬ মাসের জন্য রুল জারি করেন। এর দীর্ঘদিন পর রুলের শুনানি শেষে বুধবার আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত।

এফএইচ/এনডিএস/এমএস