গ্রেনেড হামলা : দুই সাবেক আইজিপির জামিন চেম্বারেও বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক দুই পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহুদুল হক ও আশরাফুল হুদাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালত। এখন তাদের কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (২৩ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের চেম্বারজজ আদালত 'নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ফলে, পুলিশের সাবেক ওই শীর্ষ দুই কর্তাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রইল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী। আসামি পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আরশাদুর রউফ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জামিলুর রহমান।

এর আগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্টে জামিন চান সাবেক ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং তাদেরকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে তাদের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত।

আদেশের বিষয়ে আরশাদুর রউফ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ জামিনযোগ্য। দুই বছরের সাজা হলেও ইতোমধ্যে তারা ১৪ মাস কারাভোগ করেছেন—এসব যুক্তিতে জামিন আবেদন করা হলে হাইকোর্ট ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। একইসঙ্গে দুজনের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশও স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতি ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির বহু নেতা-কর্মী আহত হন।

ঘটনার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর হামলা মামলার (হত্যা ও বিষ্ফোরক) রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং অপর ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৫২ আসামির মধ্যে অন্য মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। মামলার আসামি তারেক রহমানসহ পলাতক আছেন ১৮ জন।

ওই হামলা মামলায় আটজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। তারা হলেন পুলিশের সাবেক তিন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা (গ্রেনেড হামলার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন), শহুদুল হক ও খোদা বকশ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাইদ হাসান ও মো. ওবায়দুর রহমান, জোট সরকারের আমলে মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও এএসপি আবদুর রশিদ।

এফএইচ/এএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :