তুরাগ নদীকে ‘লিগ্যাল পারসন’ ঘোষণা হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৬ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

তুরাগ নদীর দুই পাশের অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা করতে রায় ঘোষণা শুরু করছেন হাইকোর্ট। রায়ে নাব্যতা ও বেদখলের হাত থেকে নদী রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশ তথা মানবজাতি সঙ্কটে পড়তে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

একইসঙ্গে তুরাগ নদীকে ‘লিগ্যাল পারসন’ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। যা দেশের সব নদ-নদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেও জানিয়েছেন নদীর রক্ষার দাবিতে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

মনজিল মোরসেদ জানান, জীবন্তসত্তা হিসেবে মানুষ যেমন সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করে, আদালতের এই আদেশের মধ্যদিয়ে নদীর ক্ষেত্রেও তেমনই মৌ‌লিক অধিকারের স্বীকৃতি পেল।

তুরাগ নদী রক্ষায় হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। বুধবার রায়ের অংশবিশেষ পড়া হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) রায়ের বাকি অংশ পাঠ করা হবে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট আদালতে নদী রক্ষার বিষয়ে আজ ‘গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা’ দিয়ে অবশিষ্ট রায় ঘোষণা করা হবে।

আদালত বলছেন, আইনের চোখে ব্যক্তি দুই ধরনের- ন্যাচারাল পারসন ও লিগ্যাল পারসন। একজন মানুষ ‘ন্যাচারাল পারসন’ হিসেবে যেসব আইনি সুবিধা ভোগ করেন, ‘লিগ্যাল পারসন’ এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি অধিকার প্রযোজ্য হয়।

হাইকোর্ট তার ঘোষিত অংশের রায়ে বলেছেন, অবৈধ দখলদারদের দ্বারা প্রতিনিয়তই কম-বেশি নদী দখল হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে নদী। এসব বিষয় বিবেচনা করে তুরাগ নদীকে লিগ্যাল/জুরিসটিক পারসন হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদারদের নাম ও স্থাপনার তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করেছিল আদালতের নির্দেশ গঠিত বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে। তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে ওই তালিকায় উঠে আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদেরকে এই মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়। রিটকারী এবং বিবাদী উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট মঙ্গলবার তুরাগ নদী নিয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সকল নদী রক্ষার জন্য রায় ঘোষণা শুরু করেন।

মঙ্গলবারের পর বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো হাইকোর্ট ঘোষিত আংশিক রায়ে বলেছেন, মানবজাতি টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নদী। বিভিন্ন দেশের সরকার আইন প্রণয়ন করে নদীকে বেদখলের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। নদী রক্ষায় বিশ্বব্যাপী আদালত বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছে।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, তুরাগ নদী নিয়ে বিচারিক তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলে প্রায় ৩৬টি অবৈধ দখলের চিত্র বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। সেসবের ওপর ভিত্তি করেই হাইকোর্টে এই শুনানির সূচনা হয়।

মনজিল মোরসেদ বলেন, রায়ের একটি জায়গায় আদালত বলেছে, আমাদের পাশের দেশ ভারতে নদীকে জুরিসটিক পারসন, লিগ্যাল পারসন, সর্বোপরি জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের এখানেও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে এই দাবি উঠেছে।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের এই আইনজীবী বলেন, নদী রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে জাগরণ শুরু হয়েছে। পরিবেশের জন্য নদী রক্ষার গুরুত্ব নিয়ে এখন সবাই কথা বলছে।

এফএইচ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :