স্বেচ্ছায় হাইকোর্টে হাজির হবেন যমুনা ব্যাংকের এমডি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল আলমের হাইকোর্টে হাজিরা আজ (মঙ্গলবার)। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি তাকে এদিন আদালতে হাজির না হলে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার শর্তযুক্ত আদেশ দেন আদালত।

ওই আদেশে বলা হয়, শফিকুল আলমকে ১২ ফেব্রুয়ারি’২০১৯ স্বেচ্ছায় উপস্থিত হতে হবে। যদি না হন তবে ইনডিফল্ট অর্ডারে মতিঝিল থানার ওসি তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসবেন। ওই দিন এ বিষয়ে ওয়ারেন্টও ইস্যু করেন আদালত।

সে আদেশ অনুযায়ী বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ শফিকুল আলমের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২৯ জানুয়ারি আদালতে এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী শুভ্রজিত ব্যানার্জি। অপরদিকে যমুনা কাজ ব্যাংকের এমডির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ।

পরে এবিএম আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক গ্রাহকের রাখা এমটিডিআর অর্থ (মাসিক মুনাফা নেয়ার স্থায়ী সঞ্চয়) প্রদানে হাইকোর্টের নির্দেশ প্রতিপালন না করায় যমুনা ব্যাংকের এমডিকে তলব করা হয়েছিল। ২৯ জানুয়ারি তার পারসোনাল অ্যাপিয়ার (ব্যক্তিগত হাজিরার) কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন নিজে হাজির না হয়ে আইননজীবীর মাধ্যমে বলেন যে, তিনি আউট অব কান্ট্রি। দেশের বাইরে চলে গেছেন এবং এই গ্রাউন্ডে সময়ও চেয়েছেন।

আমরা এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছি, এটা তিনি চালাকি করেছেন। তিনি দেশের বাইরে গেছেন কি না আমরা জানি না। কারণ, তার ভ্রমণ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট আদালতে সাবমিট করা হয়নি।

তিনি জানান, সাবসিকোয়েন্টলি কোর্ট কন্ডিশনাল অর্ডার দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে তাকে হাজির হতে হবে। যদি হাজির না হন তবে ইনডিফল্ট অর্ডারে মতিঝিল থানার ওসি তাকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে আসবেন, ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে।

এ ছাড়া আদলতে আজ অবমাননার রুল শুনানি হবে বলেও জানান এই আইনজীবী।

জানা গেছে, আইনজীবী তালেবুর নূর ও এআইএম হাসানুল মজিব নামে দুই ব্যক্তি এক সঙ্গে পেঁয়াজের ব্যবসা করতেন। ২০০৫ সালে পাঁচ বছরের জন্য যমুনা ব্যাংকের নওয়াবপুর শাখায় ৫১ লাখ টাকার একটি মুদারাবা সঞ্চয়ী (এমপিডিআর) হিসাব খোলেন। এ তালেবুর নূরের সঙ্গে এআইএম হাসানুল মুজিব যৌথভাবে ২০০৬ সালে তুরস্ক থেকে দুই হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেন।

কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় তালেবুর নূর ঋণগ্রস্ত হন। এ কারণে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে তার যমুনা ব্যাংকে গচ্ছিত ৫১ লাখ টাকার মালিকানা এআইএম হাসানুল মুজিবকে দেন। এরপর ২০১১ সালে এআইএম হাসানুল মুজিব টাকা তুলতে যমুনা ব্যাংকের নওয়াবপুর শাখায় আবেদন করেন। কিন্তু ব্যাংক টাকা দিতে আপত্তি জানায়।

এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল মালিককে হাজির করতে হবে অথবা বিষয়টি যমুনা ব্যাংক নিষ্পত্তি করবে। এরপর টাকার জন্য হাইকোর্টে রিট করেন এআইএম হাসানুল মুজিব। রিট আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে রিট আবেদনকারীকে টাকা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে, এ রায় স্থগিত করতে আপিল বিভাগে আবেদন করে যমুনা ব্যাংক। কিন্তু আদালত কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। এ অবস্থায় টাকা চেয়ে যমুনা ব্যাংকের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান এআইএম হাসানুল মুজিব। কিন্তু টাকা না দেয়ায় তিনি আদালত অবমাননার আবেদন করেন। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। তারপরও টাকা না পেয়ে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলায় যমুনা ব্যাংকের এমডিকে তলবের আবেদন করেন হাসানুল মুজিব।

এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি যমুনা ব্যাংকের এমডিকে তলব করে (২৯ জানুয়ারি) তাকে স্বশরিরে হাজির হতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। সেদিন হাজির না হওয়ায় তাকে ধরে নিয়ে আসতে বলেছেন আদালত।

এফএইচ/এমএমজেড/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :