নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের হাজিরা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১০ এএম, ১৬ জুন ২০১৯

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় অকৃতকার্য নিম্নমানের (সাবস্ট্যান্ডার্ড) ৫২ পণ্য বাজারে থাকা না থাকার কারণ ব্যাখ্যার জন্য আজ (রোববার) হাইকোর্টে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

বিএসটিআই’র আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার মোহাম্মদ রাসেদুল হাসান জানান, নামিদামি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের ৫২ পণ্য বাজার থেকে না সরানোর কারণে গত ২৩ মে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। তার-ই আলোকে এ তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছিলেন। একই বেঞ্চে মামলাটির শুনানির জন্য রয়েছে। সে অনুযায়ী আজ (১৬ জুন) তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে হবে।

ওইদিন তলব করার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই সময় দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

সম্প্রতি ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ৩১৩টির মধ্যে ৫২ পণ্য মানহীন বলে প্রতিবেদন দেয় মাননিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। বাকি ৯৩ পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রতিবেদন ১৬ তারিখের মধ্যে দিতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ সেটির প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করা হবে।

এদিকে আদালতের আদেশের সংশোধন চেয়ে আবেদন করে ৫২ পণ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আদালত তা আমলে নেয়ার মতো কোনো যুক্তি খুঁজে পাননি। এ সময় আদালতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রিটেস্ট অলরেডি বিএসটিআই শুরু করেছে। তবে, ৫২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেউ যদি তাদের পণ্য বাজারজাত করতে পুনরায় টেস্ট করাতে চায় তাহলে ১৩ জুনের মধ্যে তাদের পণ্য টেস্ট করতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এসব পণ্যের বেশ কয়েকটি পুনরায় টেস্ট করার পর বাজারজাত করতে শুরু করেছে।

গত ১২ মে এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বাজার থেকে আইনানুসারে এসব পণ্য সরিয়ে নিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওই আদেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দেয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে ৫২ পণ্যের একটির প্যাকেটও জব্দ করার বিষয়টি না থাকায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে তাকে তলব করেন।

তবে, সারাদেশে ৫২ পণ্য জব্দের প্রতিবেদন দেয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সাধুবাদ জানান আদালত। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন কামরুজ্জামান কচি।

প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন এম কে রহমান; এসিআই-এর পক্ষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ এবং সান চিপসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। আর বাঘাবাড়ী ঘিয়ের পক্ষে মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী শুনানি করেন।

গত ১২ মে শিহাব উদ্দিন খান বলেছিলেন, আদালত সেই ৫২ সাবস্ট্যান্ডার্ড পণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে আইন অনুসারে ব্যবস্থা (জব্দ বা ধ্বংস) নিতে বলেছেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এসব পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়। দুজন বিবাদী এ বিষয়ে ২৩ মে আদালত আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। এছাড়া আদালত রুল জারি করেছেন।

গত ৮ মে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’র (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান এ রিট করেন।
এর আগে তারা ওইসব পণ্য প্রত্যাহার ও জব্দ করার জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে দুই সচিবসহ পাঁচজনের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠান।

বিএসটিআই পরীক্ষায় ওইসব কোম্পানির ভেজাল ও নিম্নমাণের পণ্য ধরা পড়ে। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেয়ায় গত ৬ মে ওই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

বিএসটিআই-এর বরাত দিয়ে ৩ ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যেখানে ৫২টি পণ্য নিম্নমানের ও ভেজাল। বিএসটিআই ওই ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করেছে।

নোটিশে বলা হয়, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি কিডনি ও লিভারে জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্যসমূহ জব্দ না করে শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ওইসব নিম্নমানের পণ্য বাজারে বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

এফএইচ/এমএআর/এমএসএইচ

আপনার মতামত লিখুন :