আদনান হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৯
ফাইল ছবি

রাজধানীর উত্তরায় স্কুলছাত্র আদনান হত্যা মামলার ফেসবুক গ্রুপের ২৩ সদস্যের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ দিদার হোসাইন ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং ১২ জনকে অব্যাহতি দেন।

এর আগে ২৮ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে ২৩ জনের বিরুদ্ধে এ চার্জশিটটি দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

মামলায় চার্জশিট দুই ভাগে দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিদের মধ্যে ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্ত বয়স্কদের বিচার প্রকাশ্য আদালতে ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিচার কিশোর আদালতে হবে। আর মামলার সাক্ষ্য করা হয়েছে ৩৮ জনকে।

প্রাপ্তবয়স্করা হলেন- নাঈমুর রহমান অনিক, শাহরিয়ার বিন সাত্তার, রবিউল ইসলাম ওরফে সিয়াম খান, আক্তারুজ্জামান ছোটন, রবি মৃধা, আরিফুল ইসলাম সোহাগ, বাহাউদ্দিন হাসান শাওন, স্বপন মন্ডল ওরফে পটলা বাবু ও নুরে আলম।

অপ্রাপ্ত বয়স্করা হলো- সাফাত জাকির, রায়হান ইসলাম জিহাদ, নাফিজ মোহাম্মদ আলম, খন্দকার মেহরাব হোসেন, সাফিন হোসাইন, মারসাতুল রহমান রাব্বি, জাহিদুল ইসলাম জুইস, হাসিবুল হক শিশির, আল আমিন তুষার, রাজিন আহমেদ হৃদয়, ফখরুল ইসলাম শ্রবন, শাকিল সরকার, কবির মিয়া ও সাদ বিন সত্তার ডিস্কো সাদ।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১২ জনের অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারা হলেন- শাহীনুর রহমান, সেলিম খান, ইব্রাহিম হোসেন সানি, মিজানুর রহমান সুমন, নাজমুস সাকিব, ফয়সাল, আসিফ, সুমন, আরিফ, শাহীনুর রহমান, সেলিম খান ও খন্দকার শুভ।

২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবিরকে খেলার মাঠে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে প্রতিপক্ষ। চিকিৎসার জন্য তাকে উত্তরা লুবানা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর জানা যায়, উত্তরায় ‘গ্যাং-কালচার’ নিয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে স্থানীয় কিশোরদের একটি অংশ। ‘নাইন স্টার’, ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘বিগবস’ নামের গ্রুপে সক্রিয় কিশোররা শুরুতে মূলত পার্টি করা, হর্ন বাজিয়ে প্রচণ্ড গতিতে মোটরসাইকেল চালানো এবং রাস্তায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতো।

এক পর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যার শিকার উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবির। এ ঘটনায় আদনানের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।

জেএ/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :