বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ : ঢাকায় একজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
প্রতীকী ছবি

বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অপূর্ব সরকার নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডিত অপূর্ব সরকার টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরের সিংজুড়ির গ্রামের গৌর চন্দ্র সরকারের ছেলে।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, অপূর্ব সরকার পরিচয়ের সুবাদে ভিকটিমকে ডেসটিনি গ্রুপের মালিবাগ হোসাফ টাওয়ার নামক বিল্ডিংয়ের একটি প্রশিক্ষণে ভর্তি করে দেন। প্রশিক্ষণ শেষে আসামি ভিকটিমকে চাকরি করার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া তাকে বিয়ে করারও আশ্বাস দেন।

২০১১ সালের ১১ এপ্রিল ডেসটিনি অফিস থেকে মিটিং শেষে ভিকটিমকে তার বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তাকে মহাখালী এমএ ম্যানশনে নিয়ে যান। ভিকটিমকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাজি হন এবং তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে যান। পরে অপূর্ব সরকার তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

ভিকটিম আসামিকে বিয়ের চাপ দিলে ওই বছরের ১৩ এপ্রিল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিয়ে ভিকটিমের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন। ১৬ মে ভিকটিম তার মা ও বোনকে নিয়ে ডেসটিনি অফিসে গেলে আসামি অঙ্গীকারনামা দেন যে, তিনি অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে ঘরে তুলবেন। পরে ২০১৩ সালের ৭ মার্চ ভিকটিমকে জানিয়ে দেন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেবেন না এবং ঘরে তুলে নেবেন না। পরে ভিকটিম ২০১৩ সালের ২১ মার্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ২০ আগস্ট নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের উপ-পরিদর্শক কুইন আক্তার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার ১১ সাক্ষীর মধ্যে বিচার চলাকালে ১০ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।

জেএ/এসআর/এমএস