নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৬ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ হতে যাচ্ছে এমন গুঞ্জনের মধ্যে সংবিধান মেনে বিচারক নিয়োগের কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন।

এদিকে সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিলের রায়ের আলোকে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির এবং একই সালের ২১ আগস্ট তারিখে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওইসব সভায় হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিলের রিট মামলার রায় অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগ করা দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

‘ওই রায়ে বর্তমান নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং বস্তুনিষ্ঠ করার প্রয়োজনের সাতটি যোগ্যতা নির্ণায়ক হিসেবে উল্লেখ করে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই সংবিধানের ৮ম অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য থাকতে হবে এবং মেধাসম্পন্ন, পেশাগত দক্ষতা, সূক্ষ্ম বিচারিকশক্তি ও ন্যায়পরায়ণতা সম্পন্নদেরকেই কেবল সুপারিশ করা যাবে। তাছাড়া একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সকল যোগ্যতাসম্পন্ন ইচ্ছুক প্রার্থীদের সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ প্রদান করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পূর্বে তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের গুঞ্জন আছে। বিচারপতি নিয়োগের পরে তদন্ত না করে, নিয়োগের পূর্বেই তাদের যোগ্যতা, সততা সম্পর্কে তদন্ত করে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে কাউকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ করা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়।

মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু বিচারক নিয়োগের নীতিমালা বা নিয়োগের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের নির্দেশনা পালন সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না। এমতাবস্থায় বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও সর্বোপরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি অনতিবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিলের রায়ের আলোকে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

sc

সম্পাদব মাহবুব উদ্দিন খোন সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরেই একইস্থানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন বলেন, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন। আর ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির নিকট সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিভাগের বিচারক-সংখ্যা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি করা উচিত বলে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে অনধিক দুই বৎসরের জন্য অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত করিতে পারিবেন।

‘কিন্তু আমাদের দেশে রেওয়াজ হচ্ছে ৯৮ অনুসারে দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়। দুই বছর পর ওনাদের পারফরম্যান্স দেখে প্রধান বিচারপতি সুপারিশ করেন, সে অনুযায়ী ওনাদেরকে কনফার্ম করা হয়।’

আমিন উদ্দিন বলেন, একজন আইনজীবীর রিটের প্রেক্ষিতে ১০ বিচারপতির রায়ে নির্দেশনা আছে। সে নির্দেশনায় স্পষ্ট আছে প্রধান বিচারপতি দেখবেন, যারা দুই বছর অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োজিত আছেন তাদের বিচারিক কার্যক্রম। অন্যান্য কার্যক্রম সরকার দেখবেন। এইভাবে কিন্তু হয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে যে নিয়োগগুলো হবে সংবিধানের ৯৫ ও ৯৮ অনুসরণ এবং ১০ বিচারপতির রায়ের ম্যান্ডেট দেখে নিয়োগদান করবেন সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধানের বাইরে কিছু করার স্কোপ নাই। সংবিধানে স্পষ্ট আছে এখানে কী করতে হবে। একমাত্র ম্যান্ডেট হচ্ছে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ নিতে হবে আলোচনা করতে হবে। সংবিধানেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, নীতিমালা তো সংবিধানের ওপরে যাবে না। নীতিমালা তো আইনও না। নীতিমালার তো বাইন্ডিং ইফেক্টও নাই। সংবিধানে বিধান স্পষ্ট আছে। নীতিমালা কেন? আইন হতে পারে। নীতিমালা তো সংবিধানকে সুপারসিড করতে পারবে না।

এফএইচ/বিএ