মাছের খাদ্যে শূকরের উপাদান কি-না জানতে চান আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯

বিদেশ থেকে আমদানি করা মাছের খাদ্যে শূকরের মাংসের কোনো উপাদান আছে কি-না, তা জানতে চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের কাস্টমসের কাছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের থাকা এসব খাদ্যদ্রব্য পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

মাছের খাদ্যে শূকরের উপাদানের কোনো অস্তিত্ব আছে কি-না তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

হাইকোর্টের আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (২০ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। ১১ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ।

বিদেশ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের মাছের খাদ্যদ্রব্যের নমুনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই আবেদন শুনানি নিয়ে আমদানি করা মাছের খাদ্যদ্রব্যে শূকরের উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, মাছের জন্য খাদ্য হিসেবে কিছু দ্রব্য আমদানি করা হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়েছিল এগুলোর ভেতরে পশুর কোনো উপাদান আছে কি না, বিশেষ করে শূকরের। এটা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ টেস্ট করতে চেয়েছিল এবং তাতে স্পষ্টভাবে বলা ছিল যে অ্যান্টিবায়েটিক বা অন্যান্য জিনিসের সাথে বোবাইন বা পোরশেইন। বোবায়েইন হলো চতুষ্পদ পশুর থেকে যেগুলো হয়, আর পোরশেইন হলো শূকরের উচ্ছিষ্ট থেকে হয়..এগুলো আছে কি না। হাইকোর্ট বিভাগ এ পিটিশনটা সেভাবে অ্যালাউ না করে অন্যভাবে অ্যালাউ করেছে। যাতে এ জিনিসটি পরীক্ষা করা যায়নি যে এই আমাদানিকৃত জিনিসের ভেতরে কোনোরকম শূকরজাত আছে কি না। আমাদের দেশে এটা নিষিদ্ধ। আমদানি করা যাবে বোনমেইল। যাতে শূকরের কিছু থাকবে না। সেটাই কাস্টমস পরীক্ষা করতে চেয়েছিল।

‘আজকে কোর্টে এ বিষয়টি প্রার্থনা করেছি। আদালত অ্যালাউ করেছে। এখন সায়েন্স ল্যাবরেটরি এটা পরীক্ষা করবে।’

হাসান আরিফ বলেন, ফিস ফিড বাইরে থেকে যেগুলো আসে সেগুলো এতোদিন টেস্ট হয়ে আসছিল সায়েন্সল্যাবে, মৎস অধিদপ্তরের ল্যাবে, ইউনিভার্সিটির মৎস অনুষদসহ বিভিন্ন জায়গায়। সে টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী এগুলো রিলিজ করা হতো।

‘হঠাৎ করে কাস্টম অথরিটি কয়েকটা শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এটা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হলো। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলো টেস্টিংয়ের জন্য পাঠাতে। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু প্রোপার বডি যেন টেস্ট করে। সায়েন্স ল্যাব টেস্ট করে।’

তিনি বলেন, এরপরেও সরকার কাস্টমসের নতুন প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে যে টেস্টের কথা বলা হচ্ছিলো। সেটা চাচ্ছে। যেটা পশু খাদ্যের ব্যাপারে। তখন আদালত (আপিল বিভাগ) শুনে বললেন সায়েন্স ল্যাবরেটরি এ ইস্যুগুলোর ওপর একটা ফাইন্ডিংস দিক। ১০ দিনের মধ্যে এ টেস্ট করতে বলেছে।’

এফএইচ/এসআর/এনএফ/পিআর/জেআইএম