সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৫ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আট বছরেও শেষ না করায় তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) তলব করেছেন হাইকোর্ট। ৬ নভেম্বর মামলার সব নথিপত্রসহ তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি মহিউদ্দিনকে হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে, তানভীর রহমানের ক্ষেত্রে ওই মামলা কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।

ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযোগ ওঠায় তানভীর রহমানের নামের এক ব্যক্তির মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে রোববার (২০ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে তানভীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। সঙ্গে ছিলেন, অ্যাডভোকেট ওয়াহিদা ইদ্রিস, ফিরোজা পরভীন লাকী ও মো. শরিফুল হক। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সরওয়ার হোসেন বাপ্পী।

তানভীরের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ জাগো নিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন শেষ না হওয়াই আমাদের প্রার্থনা ছিল এ ব্যক্তি কত বছর আদালতে যাবেন। মামলার তদন্ত শেষ করে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়া উচিত। বিচার শুরু হওয়া উচিত। না করতে পারলে তাকে অব্যাহতি দেয়া উচিত। এটা শুনে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ৬ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার সব কাগজপত্র নিয়ে আদালতে আসতে এবং তানভীরের মামলা বাতিলের বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ আট বছর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে। আদালত বলেছেন, তদন্ত শেষ হবে কবে। তদন্ত কি অনন্তকাল ধরে চলবে। শুনানি নিয়ে আদালত তানভীরের ক্ষেত্রে মামলাটির কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না এ মর্মে রুল দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন।

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় গ্রেফতারের ২৬ মাস পর জামিনে কারাগার থেকে বরে হন তানভীর রহমান। তানভীরের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। তিনি ঢাকায় উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে থাকেন। তানভীর রহমান ২০১২ সালের ১ অক্টোবর তার কর্মস্থল স্কলাসটিকা স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় উত্তরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। এরপর ৯ অক্টোবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ২০১৪ সালে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। একই বছরের ডিসেম্বরে তিনি মুক্তি পান।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সব মিলিয়ে এ মামলায় মোট আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তা প্রহরী এনামুল, পলাশ রুদ্র পাল এবং নিহত দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমান। তাদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনই মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হন। প্রথম পাঁচজন ও নিরাপত্তারক্ষী এনামুল এখনও এ মামলায় কারাবাস করছেন।

এফএইচ/জেএইচ/এএইচ/পিআর/এমএস