‘দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে তার প্রমাণ পাসপোর্ট না দেয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯

পাসপোর্ট চেয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের জন্য রেখেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (২০ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পরে পাসপোর্ট নিয়ে করা আবেদনের শুনানি না হওয়ায় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ডাকসু ভিপি নুর। দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ভিপি নুর তার প্রতিক্রিয়া জানান। এ সময় তার সঙ্গে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদও ছিলেন।

ভিপি নুর বলেন, ‘আমি ডাকসু ভিপি হয়েও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে এ পর্যন্ত চারবার হামলার শিকার হয়েছি। এ কারণে আমি অসুস্থ। চিকিৎসকরা বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সে কারণে গত ২৩ এপ্রিল পাসপোর্ট অধিদফতরে আবেদন করি। পাসপোর্ট অধিদফতর ২ মে পাসপোর্ট দেয়ার দিন নির্ধারণ করে। কিন্তু পাসপোর্ট দেয়নি রহস্যজনক কারণে। নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট না পেয়ে গত ১ আগস্ট রিট করি।’

তিনি জানান, দীর্ঘদিন আদালত বন্ধ ছিল। এ কারণে শুনানি হয়নি। আজ আমার আইনজীবী শুনানির জন্য দিন ধার্য করার আবেদন জানান। কিন্তু আদালত শুনানির দিন ধার্য করতে রাজি হননি। কবে শুনানি হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এতে আমার কাছে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, সরকার হয়তো আদালতকে প্রভাবিত করেছে পাসপোর্ট না দেয়ার জন্য। যদি এটা হয়ে তবে তা নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে তার প্রমাণ আমাকে পাসপোর্ট না দেয়া। সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে বিচারকরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এতে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে। আদালতের প্রতি সম্মান রেখে বলবো, জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল আদালত। আপনারা বিবেকের দ্বারা পরিচালিত হয়ে জনকল্যাণে রায় দেবেন।

তিনি বলেন, পাসপোর্ট পাওয়া একজন মানুষের মৌলিক অধিকারেরই অংশ। একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বিদেশ যেতে হতে পারে। যেমন পাসপোর্ট না থাকার কারণে নেপালে একটি অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। অক্সফোর্ড ছাত্র ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানেও যেতে পারছি না।

এ সময় অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ বলেন, পাসপোর্টটি জরুরি বিষয়। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্যই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। কিন্তু আদালত তা করলেন না।

তিনি বলেন, জানুয়ারিতে যদি আবার সরকার সময় চায়, আদালত যদি সময় দেন তাহলে হয়তো ভিপি হিসেবে নুরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

এফএইচ/এএইচ/জেআইএম