আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে কমিটি গঠনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০১৯

দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ব্যাংক খাতের ঋণ অনুমোদন ও আদায়ে দুর্নীতি-অনিয়ম খুঁজে বের করে তার প্রতিকারে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে এ কমিটি যেসব সুপারিশ করবে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুসরণ করতে বলেছেন আদালত।

এছাড়া ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে সুবিধা নেয়ার জন্য আবেদন করার সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট। তবে ঋণখেলাপিদের পরে ঋণগ্রহণ করতে হলে ২০১২ সালের জারি করা ‘মাস্টার সার্কুলার অন লোন রিশিডিউলিং’ সংক্রান্ত সার্কুলারের বিধিনিষেধ অনুসরণ করতে হবে।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রোববার (৩ নভেম্বর) নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আজমালুল হোসেন কিউসি, শামীম খালেদ আহমেদ ও ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন শাহ মঞ্জুরুল হক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

পরে মনজিল মোরসেদ বলেন, কোর্ট আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন সেই রকম নয়জন ব্যক্তিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে, সেই কমিটি সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের যে দুর্বলতা, বিশেষ করে ঋণ পরিশোধ, ঋণ অনুমোদন এবং সংগ্রহে অনিয়মসহ সব বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করবেন। সেখানে তারা এগুলো তৈরি করে কী কী উপায়ে এগুলো দূর করা যায়, এ দুরবস্থাগুলো দূর করা যায়, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তারা প্রতিবেদন দেবেন। আদালত বলেছেন, যে প্রতিবেদন দেবেন বাংলাদেশ তা কার্যকর করবেন।

তিনি আরও বলেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়ে আদালত আদেশ দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১২ সালের ‘মাস্টার সার্কুলার অন লোন রিশিডিউলিং’ সংক্রান্ত সার্কুলার- যেটাতে বলা আছে কেউ যদি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ গ্রহণ করে পরে সে যদি ঋণ নিতে যায় তার কাছে যে ঋণ পাবে তার ১৫ শতাংশ অর্থ দিতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এবং সিআইবিতে তার নাম পাঠাতে হবে।

শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, আদালত কমিশন গঠনে সরকারের প্রতি কোনো নির্দেশনা দেননি। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি কমিটি করতে বলেছেন। ব্যাংকিং সেক্টরে কমিটির কাজ হচ্ছে- ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম কেন হয়েছে সেটি তদন্ত করে দেখে রিপোর্ট তৈরি করবে।

মঞ্জুরুল হক আরও বলেন, এ রায়ের ফলে আমাদের মনে হয় না ব্যাংক খাতে কোনো সমস্যা আছে। এর ফলে বরং ব্যাংকিং সেক্টর আরও ভালো হবে। আদালত বলেছেন সব ব্যাংক যেন সুদকে সিঙ্গেল ডিজিটে আনে।

মুনীরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময়েই বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিটির পরামর্শ নিয়ে কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, আজকে আদালত যে কমিটি গঠন করতে বলেছেন, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের কাজের ইন্টারাপ্ট হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সফলভাবে কাজ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংগঠন এইচআরপিবির করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ঋণখেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রুল জারি করেন। রুলে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না ও এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। এরপর রিটকারীদের আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২১ মে ওই সার্কুলারের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজার রাখার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ৮ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। ৮ জুলাই এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ান। তবে যারা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সুবিধা নেবেন তারা নতুন করে ঋণ নিতে পারবেন না। এছাড়া বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন কোর্টে এ রিট মামলা শুনানি করতে বলেন।

সে আদেশ অনুসারে রিট মামলাটি ওই আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। রুল শুনানি অবস্থায় ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে আদালতের আদেশের কয়েকবার বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে রুলও জারি করেন।

এফএইচ/বিএ/জেআইএম