বাংলাদেশের মামলাজট নিয়ে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশের মামলাজট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধান বিচারপতি জাকি বিন আজমী। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া মামলাজট কমাতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বিচারব্যবস্থা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় শীর্ষক এক সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে এ সভা হয়।

জাকি বিন আজমী বর্তমানে দুবাই আন্তর্জাতিক আর্থিক আদালতের প্রধান বিচারপতি পদে রয়েছেন। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মামলার জট কমাতে বিচারক ও আইনজীবীদের উদ্যোগ নিতে হবে। একটি মামলার বিচার নিষ্পত্তি করার পরই কেবল আরেকটি মামলা ধরতে হবে। মামলায় শুনানি মুলতবি করা যাবে না। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে মালয়েশিয়ায় মামলাজট কমেছে।’

malysia-3

‘বাংলাদেশে মামলার জট কমাতে হলে বিচারকদের কাজে আইনজীবীকে সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত পছন্দ হোক আর নাই হোক তা মানতে হবে। বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া মামলাজট কমানো সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘একটি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারলে আইনজীবী নতুন মামলা ধরতে পারবেন। এভাবে তিনি অনেক মামলা করতে পারেন। ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও কোনো আশঙ্কা থাকে না।’

বিচারপতি জাকি বিন আজমী বলেন, মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় মধ্যস্থতা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে এ পদ্ধতি গ্রহণের আগে সেখানে ভিকটিমের সম্মতি নেয়া হয়। এটার কারণে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হয়। সেখানে সব পক্ষই, এমনকি আইনজীবীরাও খুশি। বাংলাদেশেও এটা চালু করা গেলে আশা করি, বাংলাদেশ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, মামলার জট কমানো গেলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়তে পারে। তার উদাহরণ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ওই দুটি দেশ পারলে আশা করি বাংলাদেশও পারবে। এই প্রত্যাশা করছি। তবে এ জন্য বাংলাদেশের আইনজীবীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।

malysia-3

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে সহযোগিতার মানসিকতা দেখাতে হবে আইনজীবীদের। মামলা মুলতবি রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা বারের সিনিয়র সদস্যদের সম্মান করে থাকি। তিনি অন্য আদালতে ব্যস্ত থাকলে মামলা মুলতবি করি। এটাও পরিবর্তন হওয়া দরকার।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় সংবিধান প্রণেতা, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আন্তর্জাতিক সালিশি মামলায় তার অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এফএইচ/জেডএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]