সম্রাট-খালেদ-জি কে শামীমের মামলা মহানগর আদালতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৮ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯

অস্ত্র আইনে করা মামলায় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমসহ তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে করা মামলার চার্জশিট মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসে পৌঁছেছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের উপস্থিতিতে তিন মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য আগামী ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার রাশেদ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অস্ত্র মামলায় সম্রাটকে অভিযুক্ত করে র‌্যাবের চার্জশিট
রাজধানীর রমনা থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব। ৬ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক।

মামলার চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সম্রাটের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র নিজ হেফাজতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখায় তার বিরুদ্ধে আনা অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেফতার হলেও খোঁজ মিলছিল না সম্রাটের। এসবের মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর রাত থেকেই তার গ্রেফতার হওয়ার খবর এলেও পরদিন সকালে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার সঙ্গে আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

৬ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে সম্রাটের কার‌্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। নিজ কার‌্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়াও র‌্যাব-১ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে। দুই মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক।

গত ৭ অক্টোবর রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোপূর্বক ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত ১৫ অক্টোবর অস্ত্র মামলায় পাঁচদিন ও মাদক মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। ২৪ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় র‌্যাবের চার্জশিট দাখিল
ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গুলশানের অস্ত্র মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছেন র‌্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন। ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।

ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান থেকে ক্লাবের সভাপতি খালেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (এর মধ্যে একটি অবৈধ), গুলি এবং ইয়াবা জব্দ করা হয়। ক্যাসিনো থেকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১৪২ জনকে আটক এবং ২৪ লাখ নগদ টাকা, বিদেশি মদ, ক্যাসিনো বোর্ড জব্দ করার পর খালেদকে গ্রেফতার করে। তার নামে গুলশান ও মতিঝিল থানায় অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে চারটি মামলা হয়। গ্রেফতারের দু’দিন পর গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে খালেদকে বহিষ্কার করা হয়।

জি কে শামীমসহ সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে চার্জশিট
রাজধানীর গুলশান থানার অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় জি কে শামীমসহ তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব। ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক এ চার্জশিট জমা দেন। জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষী হলেন- দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিজ কার‌্যালয়ে সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার হন জি কে শামীম। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচার আইনে তিনটি মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে শামীমকে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করা হয়। গ্রেফতারের পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর শামীমের অস্ত্র ও মাদক মামলায় পাঁচদিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। একই সঙ্গে তার সাত দেহরক্ষীর অস্ত্র আইনের মামলায় চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় রিমান্ড শেষে জি কে শামীমকে মাদক আইনের মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তদন্ত শুরু করে।

জেএ/এনএফ/এমএস