সুরক্ষা ছাড়া বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধে রিটের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৭ এএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশে গৃহকর্মী বা নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।

জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিটকারী আইনজীবী।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) রয়েছে।

এর আগে কক্সবাজারের রামু উপজেলার পশ্চিম সমুদ্রপাড়ার বাসিন্দা রাজিয়া খাতুনের পক্ষে (১২ নভেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট জামান আক্তার বুলবুল এ রিট করেন।

রিটে যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশে গৃহকর্মী বা শ্রমিক না পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য চার দেশ হলো- ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডান।

একই সঙ্গে মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ আইনে করা মামলার বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

অন্যদিকে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরত আসা নারী শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামান আক্তার বুলবুল নিজেই রিটের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

রিটের আইন, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব, পুলিশের আইজি, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনে বিবাদীদের ব্যর্থতা, মানবপাচার প্রতিরোধে ২০১২ সালে করা মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া এবং আইনি সুরক্ষা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের রামুর হাজীপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলায় রামুর ওই শিশুসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলায় শিশুটির বয়স দেখানো হয় ২২ বছর। এ মামলায় গত ২৮ অক্টোবর হাইকোর্ট শিশুটিকে জামিন দেন। জামিন শুনানিকালে বলা হয়, শিশুটির জন্ম ২০০৭ সালে। তার বয়স এখন ১১ বছর। শিশুটির বয়স যখন ছয় বছর তখন তার পিতা মারা যায়। ঘটনা দেখানো হয়েছে ২০১৪ সালের। তখন শিশুটির বয়স ছিল সাত বছর। এই শিশুটিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ চেয়ে রিট করা হয়।

এফএইচ/এএইচ/এমকেএইচ