ভেজাল ওষুধের সঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

যে বা যারা ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, মানহীন ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদন এবং বিক্রির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তি যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।

সেইসঙ্গে প্রতিটি ওষুধের পাতায় বাংলায় নাম, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্ট করে লেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছেন আদালত।

আদালতের মন্তব্যের বিষয়ে নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের জানান, কেউ যদি ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ চেয়ে করা এক রিটের শুনানির নির্ধারিত দিনে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ‘মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ে গৃহীত কার্যক্রম’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার শুনানিতে আদালত বলেন, ‘একই ফার্মেসিতে একাধিকবার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে নিয়মিত মামলা করতে হবে। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফার্মেসির বিরুদ্ধে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা পর্যাপ্ত নয়। ভেজাল ওষুধের সঙ্গে জড়িতদের যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।’

বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে চিকিৎসকদের কমিশন খাওয়ারও সমালোচনা করেন হাইকোর্ট। পরে আগামী ১২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে গত ১১ জুন ‘ঢাকায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এর নির্বাহী পরিচালক ও আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন গত ১৭ জুন হাইকোর্টে রিট করেন।

সেই রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৮ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ সব ওষুধের বিক্রি বন্ধ করে তা ধ্বংস করে ফেলারও নির্দেশ দেন আদালত। সেইসঙ্গে ভেজাল ওষুধ সরবরাহকারী, সংরক্ষণ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর রেজিস্টার্ড লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার করে ধ্বংসের আদেশ দেয়। সেই আদেশ প্রতিপালন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

গত দুই মাসে ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদন আজ আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ।

সে প্রতিবেদন অনুযায়ী এ আইনজীবী আদালতে বলেন, গত দুই মাসে ১৩ হাজার ৫৯৩টি ফার্মেসি পরিদর্শন করে মোবাইল কোর্টে ৫৭২টি মামলা করা হয়। এতে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ২টি ফার্মেসি সিলগালা করা হয়। এছাড়া একই সময়ে ৩৪ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। এর পর আদালত বলেন, ওষুধ প্রশাসনকে অভিনন্দন।

আদালতে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের সঙ্গে আমরা একমত। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ যেন বাজারে না থাকে এটা আমরাও চাই। এরপর আদালত প্রতিটি ওষুধের পাতায় স্পষ্ট করে নাম, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও স্পষ্ট লেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন।

এরপর ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘ফ্যাক্টরি মালিকদের সঙ্গে এ নিয়ে বসে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দেব।’

এফএইচ/জেডএ/জেআইএম