সংশোধনাগারে আর কত শিশু আছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৫ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত হয়ে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কতজন শিশু জামিনে মুক্তি পেয়েছে সেটি জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের কম বয়সী কতজন শিশু মুক্তি পেয়েছে এবং তাদের কার কাছে তুলে দেয়া হয়েছে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া ১২১ শিশুর বাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত অন্য কোনো শিশু সংশোধনাগারে আছে কি না, থাকলে তাদের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তাও জানাতে চান হাইকোর্ট। আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এসব তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানির নির্ধারিত দিনে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শিশুদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম।

এর আগে এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনার পর গত ৩১ অক্টোবর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন।

ওইদিন আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত ওই দুই কেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের নিচের শিশুদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া বাকিদের ছয় মাসের জামিন দেন। তারা সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে জামিননামা দেয়ার পর মুক্তি পাবে।

একইসঙ্গে, তাদের দণ্ড ও আটকাদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজের আনেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। তিনি প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান। এরপর আদালত আদেশ দেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু আইনে স্পষ্টই বলা আছে, অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধে জড়িত থাকা শিশুর বিচার শুধু শিশু আদালতেই হবে। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত শিশুদের দণ্ড দিয়ে চলেছেন। এ মুহূর্তে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ১২১ জন শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের দণ্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরা তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করছে।

শিশু আইনের পাশাপাশি হাইকোর্টের একাধিক রায়েও বলা হয়েছে, শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের বিচার শুধু শিশু আদালতেই হতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত দূরের কথা, অধস্তন আদালতের কোনো বিচারক শিশুদের বিচার করলেও তা হবে বেআইনি।

এফএইচ/জেডএ/পিআর