কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন : রিটের রায় ৫ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯

নিকট আত্মীয় ব্যতিত মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান তথা কিডনি দানের বিষয়ে অবাধ সুযোগ না রেখে সংকীর্ণ আইনের প্রসার ঘটানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি শেষ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৫ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রিটের ওপর জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম এবং তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট খোন্দকার নীলিমা ইয়াসমিন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

এর আগে গত ৭ নভেম্বর কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে ৭ সদস্যর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কমিটি আদালতে তাদের লিখিত মতামত দাখিল করেন। তারা বলেন, আত্মীয় নন এমন কারো কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন নেই। আইনের বাইরে অন্য কারো কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের দরিদ্র মানুষের জীবন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ধনীরা বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার করবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের মাত্রা বাড়বে বলে অভিমত দেন এ বিশেষজ্ঞ কমিটি। তবে সাত সদস্যের এ বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিষয়ে দেশের বর্তমান আইন সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। এ আইনে নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য কোরো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার সুযোগ নেই। তাই একজন সুস্থ্য মানুষ চাইলে অন্য কাউকে তার অঙ্গ দান করতে পারেন এমন আইন থাকা দরকার।

গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত জানতে চান। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রো-ভিসি ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির অপর ছয় সদস্য হলেন- কিডনি ফাউন্ডেশনের চিফ কনসাল্ট্যান্ট অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ, নেপ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আসিয়া খানম, বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম খুরশীদুল আলম, বারডেম হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা এম এইচ ফয়সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম এবং জাতীয় কিডনি ডিজিসেস ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা।

এর আগে এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের ৩টি ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। মানবদেহ অঙ্গ প্রতঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ এর ধারা তিনটি হলো- ২ (গ), ৩ ও ৬। নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গ্রহণ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দাতার যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছে এ ধারাগুলোতে।

এছাড়া ১৯৯৯ সালের আইনের কয়েকটি বিধি প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা কেন অবৈধ এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

ফাতেমা জোহরা নামে এক ব্যক্তি ২০১৫ সালে তার মেয়ে ফাহমিদাকে একটি কিডনি দান করেন। এরপরও মেয়ের কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দাতা পেলেও আইনগত বাধার কারণে মেয়েকে আর কিডনি দিতে না পেরে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

এফএইচ/আরএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]