আবরারের মৃত্যু : ক্ষতিপূরণ শুনানিতে পরিবারকে চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৭ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও ঘটনা তদন্তের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রেখেছেন হাইকোর্ট।

আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রেখেছেন আদালত। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী ফয়জুল্লাহ ফয়েজ।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রিটের শুনানি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) করে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ (মঙ্গলবার) রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আইনজীবী ফয়জুল্লাহ ফয়েজ।

আইনজীবী জানান, ক্ষতির্পূরণের নির্দেশনা চাওয়ার বিষয়ে আদালত বলেন, ক্ষতিপূরণের বিষয় নিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, আবরারের পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে আসতে হবে। তার পরিবার থেকে যদি কেউ আসে তখন বিবেচনা করা হবে। এছাড়া এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন আসুক। তদন্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ও আইনজীবী ওবায়েদ আহমেদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাইজুল্লাহ ফয়েজ এ রিট আবেদন করেন। রিটে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য সচিব, শিক্ষা সচিব, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডেসা), দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশক, সম্পাদক এবং সাময়িকী কিশোর আলোর সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী জানান, প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার জন্য প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বাকি বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম আলোর ম্যাগাজিন কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবরারের মৃত্যু হয়। এরপর গত ৩ নভেম্বর আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য সচিব, শিক্ষা সচিব এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অনুরোধ জানিয়ে এ নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিট করা হয়।

মঈনুল আবরার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে দৈনিকটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৬ নভেম্বর মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা মো. মুজিবুর রহমান। পরে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. আমিনুল হক আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

এফএইচ/আরএস/এমকেএইচ