সর্ষের ভেতরে ভূত : আইএসের টুপি নিয়ে হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১১ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০১৯

নিম্ন আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও হলি আর্টিসান মামলায় দণ্ডিত দুই আসামির মাথায় আইএসের চিহ্ন সম্বলিত টুপি কীভাবে এলো তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিষয়টিকে আদালত সর্ষের ভেতরে ভূত বলে আখ্যায়িত করেছেন।

রোববার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক মামলার শুনানির পর পত্রিকার প্রতিবেদন ও আইএস নিয়ে কাজ করা আইনজীবীর নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন আদালত। হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এ সময় আদালতে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, আইএসের টুপি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। পত্রপত্রিকায় আইএসের টুপি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। আমি তো আইএসের উপস্থিতি আছে, এ ইস্যুতে কথা বলেছি।

আইনজীবী বলেন, গত ২৭ নভেম্বর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মামলায় জঙ্গিদের ফাঁসির রায় দেওয়ার পর তাদের কয়েকজনের মাথায় আইএসের টুপি দেখা গেছে। এ ঘটনার পর আমি আমার জীবন নিয়ে হুমকির মধ্যে আছি। আমার নিরাপত্তা কী? এখন তো আমি আমার (আইনজীবী জেড আই খান পান্না) নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তখন হাইকোর্ট বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের বুকে সাহস নিয়ে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এই টুপি এলো কোথা থেকে? পুলিশ বলছে, কারাগার থেকে এসেছে। আর কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বাইরে থেকে এসেছে। এরা কেউ যদি জড়িত না থাকে তবে কি ইবলিশ এসে দিয়ে গেছে?

তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। আমি বলতে চাই, ছোট কর্মচারী হোক বড় কেউ হোক, কেউ না কেউ তো জড়িত। আমরা চাই না এই ঘটনায় আরেক জাহালম বা জজ মিয়া আসুক। এ ঘটনায় পুলিশের আইজি, আইজি প্রিজনসসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

এসময় আদালত বলেন, আমরাও পত্রিকায় পড়েছি। দেখলাম, পুলিশ বলছে কারাগার থেকে টুপি এসেছে। আর কারা কর্তৃপক্ষ বলছে বাইরে থেকে এসেছে। আদালত বলেন, এই টুপির বিষয়ে কেউ কিছু জানে না-তা তো হতে পারে না। শর্ষের মধ্যে ভূত। কী আর করা। এ নিয়েই আমাদের চলতে হবে। পরে আইনজীবী জেড আই খান পান্নার নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে (ডিএজি) মৌখিক নির্দেশনা দেন আদালত।

দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলার মামলার ৮ আসামির মধ্যে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি একজন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান খালাস পেয়েছেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগানের মাথায় জঙ্গি সংগঠন ‘আইএসের টুপি’ দেখা যায়। রিগ্যান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনের মাথাও আইএসের টুপি দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্ব মহলে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কারা বেষ্টনীর মধ্যে কীভাবে আসামিদের মাথায় এ ধরনের টুপি এলো?

এফএইচ/এসএইচএস/আরএস/এনএফ/এমএস/এমকেএইচ