বুড়িগঙ্গায় ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন নিয়ে হাইকোর্টের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৮ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বুড়িগঙ্গা নদীতে ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ লাইনের তথ্য নিয়ে দুই ধরনের প্রতিবেদন দাখিল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত ওয়াসার আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একবার বললেন যে, কোনো লাইন নেই। আবার বলছেন ১৬টি আছে। আপনাদের কোনো রিপোর্ট সত্য? আদালতে কেন অসত্য রিপোর্ট দিলেন। আদালতে অসত্য তথ্য দেয়া ফৌজদারি অপরাধ। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক আবেদনের ওপর শুনানিতে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

আদালতে আবেদনকারীপক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে ওয়াসার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাছুম।

ওয়াসার পক্ষে লিখিত জবাব দাখিল করেন ব্যারিস্টার এ এম মাছুম। তবে তিনি উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত। তার পক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তারই জুনিয়র অ্যাডভোকেট নাহিয়ান-ইবনে-সুবহান। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম।

এর আগে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরানীগঞ্জের চর রঘুনাথপুর, কামরাঙ্গীরচর, জিনজিরা, সদরঘাট, ওয়াইজঘাট, বাদামতলী, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, শামপুর, কদমতলী, ফতুল্লা, ধোলাইখাল, মিলব্যারাক, ফরিদাবাদ, গোসাইবাড়ি, মিলব্যারাক মাজার, লালবাগের সোয়ারীঘাট ও নলখোলা এলাকায় ৫০টি স্থান দিয়ে ওয়াসার সুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে দূষিতবর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে।

কিন্তু ওয়াসার আইনজীবীর স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গার কোথাও বর্জ্য ফেলা হয় না।

এই দুই প্রতিবেদন দেখার পর গত ১৭ নভেম্বর ওয়াসার এমডিকে শোকজ করেন হাইকোর্ট। শোকজ নোটিশে আদালতের আদেশ অমান্য করা এবং মিথ্যা তথ্য দেয়ায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। ১৫ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়।

এ অবস্থায় ওয়াসার এমডির একটি জবাব হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। তাতে ২০১১ সালে হাইকোর্টের দেয়া রায় যথাযথ বাস্তবায়ন না করায় নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তার জবাবের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে দেয়া একটি চিঠি তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ‘আপনাদের প্রতিবেদনে দাবি করা ওয়াসার ৫৮টি সুয়ারেজ লাইন বুড়িগঙ্গা নদীতে পতিত হয়েছে সেই সুয়ারেজ লাইনের আউটলেট/উৎসমুখ ঢাকা ওয়াসা ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধিদের সরেজমিনে যৌথ পরিদর্শনে দেখিয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হলো।’

এই প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেন, এটাতো শুভংকরের ফাঁকি। দায়িত্ব এড়ানোর জন্য এ ধরনের প্রতিবেদন দেয়া হয়।

শুনানিতে আদালতে অসত্য প্রতিবেদন দেয়ায় ওয়াসার দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানান। তবে শুনানিকালে ওয়াসার মূল আইনজীবী না থাকায় আদালত মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

এফএইচ/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]