রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৯ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

রাষ্ট্রপতিকে ‘সুপ্রিম’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাজে আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় না।’

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত ‘জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৯’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫ (৬) এর ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সরকারের কার্যাবলী বণ্টন এবং পরিচালনার জন্য বিধানসমূহ প্রণয়ন করে থাকেন। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ (রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদক্রম) প্রণয়ন করা হয়ে থাকে এবং এতে যেকোনো পরিবর্তন আনার এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫১ (১) এবং ৫৫ (৫) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যক্রমের বিষয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় না। কিন্তু প্রায়শই মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারাধীন বিষয়ে আদালতের আদেশ প্রণয়নের বিষয় লক্ষ্য করা যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেটা আমি মনে করি আসলে… একটা রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনটি অঙ্গ থাকে- আইন সভা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ। কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সুপ্রিম। এই যে একটা সমন্বয়, এটা হওয়া দরকার। একের কাজে যদি আরেকজনের যদি হস্তক্ষেপ করা হয়, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনা বা ন্যায় বিচার বা শান্তি বা উন্নয়ন করা বেশ কষ্ট হয়ে যায়।’

রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে ‘সমন্বয়’ অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব সময় এটা মনে করি যে, একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে আইনসভা, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ- এই তিনটি অঙ্গ অপরিহার্য। এই তিনটি অঙ্গই চলবে তাদের নিজস্ব আইন ও নীতি দ্বারা। এটা ঠিক। আবার তিনটি অঙ্গের মধ্যে একটি সমন্বয়ও থাকতে হবে, যা দেশকে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যেটা একান্তভাবে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া এবং উন্নয়নের জন্য একান্তভাবে অপরিহার্য বলে আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রমুখ।

এফএইচ/এমএসএইচ