এজলাসে হট্টগোল : জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে আপিল বিভাগের এজলাসে দলটির আইনজীবীদের হট্টগোলের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

জনস্বার্থে রোববার (৮ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ তিনজন বরাবর এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে রাশিদা চৌধুরী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীরা হট্টগোল করেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসন থেকে কোনও অনুসন্ধানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জড়িত যারা তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের তিন জনের প্রতি এই নোটিশ পাঠিয়েছি।

তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জামিনের আপিল শুনানির দিন গত (৫ ডিসেম্বর) হট্টগোলের ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নিলু এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আপিল শুনানির দিন ধার্য ছিল ৫ ডিসেম্বর। কিন্তু খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ অবস্থা জানিয়ে আদালতের নির্দেশিত মেডিক্যাল রিপোর্ট দিতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হলে ওই শুনানি পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর ধার্য করেন আদালত। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে টানা তিন ঘণ্টা অবস্থান নেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। তারা হট্টগোল বাঁধিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। ঘটনাটিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন খোদ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

সেদিন খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিলে সময় চায় রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত কোনও ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের (বুধবার) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদন রোববার বা সোমবার (৮ বা ৯ ডিসেম্বর) দিতে নির্দেশনার আবেদন জানান। কিন্তু তারিখ পরিবর্তন করেননি আদালত।

এর পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এজলাসে হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে বিচারকরা এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরতির (১১টা থেকে সাড়ে ১১টা) পর ফের আদালত বসলে জয়নুল আবেদীন শুনানি করতে চান। কিন্তু আদালত তাতে সায় দেননি। এর মধ্যে হট্টগোলের কারণে অন্য মামলার শুনানিও ব্যাহত হয়। এ সময় বিএনপিপন্থি ২-১ জন সিনিয়র আইনজীবী এজলাস থেকে বের হতে চাইলে জুনিয়রদের বাধার মুখে পড়েন। এজলাসে তারা খালেদা জিয়ার জামিনের পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

পরে আপিল বিভাগের বিচারকাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা পেরোলে সোয়া ১টার দিকে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ। পরে আইনজীবীরাও বের হয়ে যান।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

এদিকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। আপিলের পর হাইকোর্টে ওই সাজা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তবে সেই আবেদন এখনও আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫’র বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।

এফএইচ/এইচএ/পিআর/জেআইএম