এজলাসে হট্টগোল : নোটিশদাতাকে পাল্টা নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে আপিল বিভাগের এজলাসে দলটির আইনজীবীদের হট্টগোলের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশ পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী এক আইনজীবী পাল্টা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হট্টগোলের ঘটনায় নোটিশ পাঠানোর কোনো আইনগত বৈধতা আছে কিনা এবং সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আইনি নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে নোটিশ প্রেরণকারী আইনজীবী রাশেদা চৌধুরী নিলুকে রোববার নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

এর আগে খালেদার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে হট্টগোলকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে রোববার বিকেলে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

এর পরপরই সুপ্রিম কোর্টের এজলাসের ভেতর সংঘঠিত কোনো বিষয়ে কোনো আইনজীবী কর্তৃক সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে আইনি নোটিশ পাঠানোর আইনগত বৈধতা আছে কিনা এবং সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আইনি নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- তা জানানোর জন্য আইনজীবী রাশেদা চৌধুরী নিলুকে নোটিশ পাঠানন আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

নোটিশে জুলফিকার আলী জুনু বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তথ্য অনুযায়ী রাশেদা চৌধুরী নিলু আপিল বিভাগের পারমিশনপ্রাপ্ত কোনো আইনজীবী নন। তিনি হাইকোর্ট বিভাগের একজন আইনজীবী। একজন হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হয়ে আপিল বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা আপিল বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল এবং পেশাগত অসদাচরণ।

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আপিল শুনানির দিন ধার্য ছিল ৫ ডিসেম্বর। কিন্তু খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ অবস্থা জানিয়ে আদালতের নির্দেশিত মেডিক্যাল রিপোর্ট দিতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হলে ওই শুনানি পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর ধার্য করেন আদালত। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে টানা তিন ঘণ্টা অবস্থান নেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। তারা হট্টগোল বাঁধিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। ঘটনাটিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন খোদ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

সেদিন খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিলে সময় চায় রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত কোনো ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের (বুধবার) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত মুলতবি করেন। ওই সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদন রোববার বা সোমবার (৮ বা ৯ ডিসেম্বর) দিতে নির্দেশনার আবেদন জানান। কিন্তু তারিখ পরিবর্তন করেননি আদালত।

এর পরপরই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এজলাসে হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে বিচারকরা এজলাসকক্ষ ত্যাগ করেন। বিরতির (১১টা থেকে সাড়ে ১১টা) পর ফের আদালত বসলে জয়নুল আবেদীন শুনানি করতে চান। কিন্তু আদালত তাতে সায় দেননি। এর মধ্যে হট্টগোলের কারণে অন্য মামলার শুনানিও ব্যাহত হয়। বিএনপিপন্থী দু-একজন সিনিয়র আইনজীবী এজলাস থেকে বের হতে চাইলে জুনিয়রদের বাধার মুখে পড়েন। এজলাসে তারা খালেদা জিয়ার জামিনের পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

পরে আপিল বিভাগের বিচারকাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা পেরোলে সোয়া ১টার দিকে এজলাসকক্ষ ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ। পরে আইনজীবীরাও বের হয়ে যান।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। আপিলের পর হাইকোর্টে ওই সাজা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তবে সেই আবেদন এখনও আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫’র বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।

এফএইচ/বিএ/পিআর