রাজপথ উত্তপ্ত না হলে কখনই অধিকার আদায় হয় না : খন্দকার মাহবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, রাজপথ উত্তপ্ত না হলে কখনই অধিকার আদায় হয় না। গণতন্ত্র থাকে না। মানবাধিকার থাকে না। আইনের শাসনও থাকে না।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলছি, আমরা ১৯৯০ সালে এরশাদের পতন দেখেছি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ভাষার অধিকার আদায় করেছি। রাজপথ উত্তপ্ত না হলে কখনই কিন্তু অধিকার আদায় হয় না।’

তিনি বলেন, আমরা আজকে এমন একপর্যায়ে এসেছি যে, সরকারের কোনো বৈধতা নেই। এ সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় এসেছে। এখনো ক্ষমতায় আছে। সরকারকে যেকোনো সময় ধাক্কা দিলে, পুলিশ প্রশাসন তথা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পাশ থেকে সরে গেলে দেখবেন সরকার পড়ে গেছে।

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনতাই তাদের (সরকার) বিচার করবেন, সেই সময় এসেছে। আর যারা আমাদের আইনের শাসনের রক্ষা করতে বসেছেন (বিচারপতিরা), বিচার বিভাগও আমরা দেখেছি যে, অত্যন্ত দুঃখজনক; তারাও বাতাসের আবহাওয়া দেখেন। কিন্তু তাদের (বিচারপতিদের) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা যদি না পারেন তাহলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।’

বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলুন, আমরা শপথ নিয়েছিলাম আইনের শাসন রাখব, ন্যায় বিচার করব। তাতে আমরা ব্যার্থ হলে পদত্যাগ করব। আজকে সময় এসেছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধ সরকারের যেদিন পতন হবে সেদিন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। গণতন্ত্র উদ্ধার হবে। গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকার রক্ষা করা যাবে না। মানবাধিকার রক্ষার জন্য গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছি। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের যে প্রধানমন্ত্রী আছেন তারওবা কতটা ক্ষমতা আছে? তিনিও কিসের ইঙ্গিতে কিসের ভিত্তিতে তাও আমরা জানি না। আমাদের সময় এসেছে। হত্যা গুম নির্যাতন জেল জুলুম সব কিছু হয়ে গেছে। বাকি রয়েছে ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামা। এটা যদি না পারেন সুপ্রিম কোর্টের পবিত্র অঙ্গনে এই সেমিনারে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। আমাদের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন সবাইকে বলতে চাই, ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য দেশে আইনের শাসন কায়েম করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।’

একই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনাদের কি মানবাধিকার আছে? আমরা তাদের কাছে দাবি করি আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছেন। আমরা গত ৫ ডিসেম্বর কী দেখলাম? বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া তিনি কিন্তু জোর করে ভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হননি। গণতন্ত্রের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। এটা কোন ধরনের মানবাধিকার?

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে সংগঠনের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহসভাপতি গোলাম রহমান বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন, ড. মো. শাহজাহান, মো. মোবারক হোসেন, এসএম কামাল উদ্দিন, আইনজীবী ড. ফরিদ উদ্দিন ফরিদ, মুহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন, লুৎফুল আহসান ও জুলফিকার আলী জুনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/আরএস/এমকেএইচ