আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে বসছে সিসি ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৫ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের হট্টগোলের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালত কক্ষে সিসি ক্যামেরা বসাতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই এ ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তারা বলেছেন, প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, অভিনন্দন জানাই।

তবে, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর এবং মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে তারা জাগো নিউজকে জানান।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকে কেন্দ্র করে গত ৫ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নজীরবিহীন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মুহুর্মুহু স্লোগান, মাঝে মাঝে সরকার সমর্থক আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে চরম হইচই-হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ফলে বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘খালেদা, জিয়া, জিয়া, খালেদা’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতি প্রথম ধাপে এজলাস ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সোয়া এক ঘণ্টার বেশি সময় নির্বিকার এজলাসে বসে থাকেন বিচারপতিরা। আইনজীবীদের এই আচরণে প্রধান বিচারপতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় সারাদেশে সব মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সূত্র বলছে, আদালত কক্ষে যদি কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায়, তবে তাদের চিহ্নিত করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আপিল বিভাগে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘ওইদিন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগতরা এবং সুপ্রিম কোর্টে তালিকাভুক্ত নন এমন আইনজীবীরা সেদিন কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটায়। এ কারণে যদি সিসি ক্যামেরা বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে সেটাকে স্বাগত জানাই। অবশ্যই এটা সঠিক সিদ্ধান্ত।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, ‘সেদিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা আপিল বিভাগে উপস্থিত ছিলেন। তারাও হইচই করেছেন। এদের অধিকাংশই আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত নন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওইদিন সরকারি দলের কেউ কেউ কালো কোট পরে আদালতে এসেছিলেন। তাই বহিরাগতদের চিহ্নিত করতে ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তাকে স্বাগত জানাই।’

এফএইচ/এসআর/পিআর