‘পরবর্তী করণীয় সিনিয়র আইনজীবীরা ঠিক করবেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় কী, তা সিনিয়র আইনজীবীরা বসে ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।

তিনি বলেছেন, এখন আদালত যে আদেশ (খারিজ করা) দিয়েছেন সেখানে কোনো রিজন (কারণ) উল্লেখ করা হয়নি। দেখবো, কী কারণে আমাদের আবেদন খারিজ করা হয়েছে। সে বিষয় দেখে আমাদের একটা সিনিয়র আইনজীবী প্যানেল আছে, ওই প্যানেলের আইনজীবীরা বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ আদেশ দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন জয়নুল আবেদীন।

এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব ফজলুর রহমানসহ বিএনপিপন্থী শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ খালেদার জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, একটি রাজনৈতিক মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি খুবই অসুস্থ। তার অ্যাডভান্সড (উন্নত) চিকিৎসা দরকার। মানবিক কারণে আমরা আদালতে তার জামিন চেয়েছিলাম। সরকারের রোষানলের কারণে সর্বোচ্চ আদালতে জামিন পেলাম না। কী কারণে জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে তা দেখে এবং সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে আমরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার চাইছে তার (খালেদা জিয়া) মৃত্যু পর্যন্ত তাকে জেলে আটকে রাখতে।

শুনানি শুরু হওয়ার আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে আদালতের কাছে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর। এরপর ১০টা ১৩ মিনিটের দিকে শুনানি শুরু হয়।

প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তার বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।

শুনানিতে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এই আদালতের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার জামিন চাইছি। খালেদা জিয়া সুস্থ মানুষ ছিলেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।’

আদালতকে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবস্থা এমন যে, তিনি পঙ্গু অবস্থায় চলে গেছেন। হয়তো ছয় মাস পর তার অবস্থা আরও খারাপ হবে। এজন্য মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হোক। এখন তার অবস্থা খারাপের দিকে। খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এজন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন আবেদন করেছি।’

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) এক মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়েছে। অন্য মামলায় সাত বছর হয়েছে। তারা (খালেদার আইনজীবীরা) আবেদনে বলেছেন, ১৯৯৭ সালে একবার ও ২০০২ সালে একবার হাঁটু প্রতিস্থাপন করেছেন তিনি (খালেদা জিয়া)। তাহলে তো ন্যাচারালি তার হাঁটা রেস্ট্রিকটেড হবে। (জিয়া) অরফানেজ মামলায় যেমন দ্রুত আপিল শুনানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এটাতেও দিতে পারেন।’

পরে আদালত সোয়া ১টার দিকে আদেশ দেন। জামিন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। তবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে মিছিল বের করেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা।

এফএইচ/এইচএ/এমকেএইচ