ডিপিএস-এসটিএস স্কুলের অধ্যক্ষকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত দিল্লি পাবলিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ডিপিএস-এসটিএস) শিক্ষার্থীদের দেশীয় সংস্কৃতি না শিখিয়ে ভিন দেশি সংস্কৃতি শেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি অশ্লীল ভাষায় লেখা বই পড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে স্কুলের অধ্যক্ষ হর্ষ ওয়ালকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগামী ১৩ জানুয়ারি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আদালত।

এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মনজুর নাহিদ। স্কুলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।

পরে ব্যারিস্টার অনিক আর হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে বাংলা ভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। ২০১৭ সালের এক রায়ে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু সেসব নির্দেশনা অমান্য করে উত্তরায় অবস্থিত দিল্লি পাবলিক স্কুলে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চা ও ভারতীয় বিভিন্ন দিবস, ব্যক্তি সম্পর্কে পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া স্কুলটির অষ্টম শ্রেণির একটি বইয়ে অশ্লীল শব্দমালা রয়েছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে।’

বিষয়টি নিয়ে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, শফিউল আযমসহ ১৫ জন অভিভাবকের পক্ষে ১৩ নভেম্বর স্কুলের অধ্যক্ষকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠান। নোটিশের জবাব না পেয়ে আদালতে এ বিষয়ে রিট করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক।

আদালত আজ রিটের শুনানি নিয়ে ডিপিএস-এসটিএস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষকে তলবসহ আদালত অবমাননার রুল জারি করেন।

রুলে শিক্ষার্থীদের দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা না করানোয় আদালত অবমাননার দায়ে তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ মে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে বাংলা ভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার ওপর জোর দিতে রায় দেন হাইকোর্ট। এছাড়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসসহ সব জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। জাতীয় দিবসসমূহ যথাযথ মর্যাদায় পালনের পাশাপাশি দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী রবীন্দ্র-নজরুল, বঙ্গবন্ধুসহ স্বাধীনতায় আত্মদানকারীদের জীবনী নিয়ে অনুষ্ঠান করতে বলা হয় রায়ে।

এফএইচ/এসআর/পিআর