‘বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছতায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৮ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছতায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।

তিনি বলেন, বিচারের রায় পক্ষে আসলে বিচার বিভাগ স্বাধীন, আর বিপক্ষে আসলেই পরাধীন- এটা সঠিক নয়।

এদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সুফল থেকে বঞ্ছিত হওয়ার অনেক কারণই রয়েছে।

তিনি বলেন, সবসময়ই উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে ক্ষমতাসীন সরকারের দলের আস্থাভাজন ও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। এই যদি হয় বিচারক নিয়োগের অবস্থা, তাহলে সঠিক বিচার আসবে কী করে।

স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের এক যুগ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, বিচার বিভাগের সম্মান রক্ষায় সকলের সচেতনতা প্রয়োজন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধায়নে একটি স্বাধীন সেক্রেটারিয়েট থাকা খুবই জরুরি এবং আশা করা যাচ্ছে নিকট সময়ে তা বাস্তবে পাওয়া যাবে। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, আমাদের বিচার বিভাগ বরাবরই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সবসময়ই সকল বিরোধী দল বিচার বিভাগ স্বাধীনতার কথা বলে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সুফল থেকে বঞ্ছিত হওয়ার অনেক কারণই রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের বিচারক নিয়োগের কোনো আইনও নেই, নীতিমালাও নেই।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, নিম্ন বা উচ্চ আদালতে ওই ব্যক্তির অবশ্যই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, মেধাসম্পন্ন, সৎ ও সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হতে হবে। কিন্তু সবসময়ই উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে ক্ষমতাসীন সরকারের দলের আস্থাভাজন ও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। এ-ই যদি হয় বিচারক নিয়োগের অবস্থা, তাহলে সঠিক বিচার আসবে কী করে।

হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের যুগপূর্তি ও মাসদার হোসেন মামলার ২০ বছর পূর্তিতে আজকের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের দিনে বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগকে স্বাধীন করে তুলতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে উদ্যোগী হওয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এতে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সংবিধান বিশ্লেষক মিজানুর রহমান খান, বক্তৃতা করেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও নাগরিক প্রতিনিধি মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

এফএইচ/বিএ/জেআইএম