আদালতপাড়ায় স্বস্তির রায়

জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম জাহাঙ্গীর আলম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৮ এএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯

নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার সাক্ষী ২০১৯ সাল বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। দুর্নীতি-অনিয়ম-অবিচারের সাজায় এ বছর ব্যস্ত ছিল আদালতপাড়া। ২০১৯ সাল সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা, গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলা এবং স্কুলশিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়াকে জাবালে নূর বাসের চাপায় হত্যা মামলার রায়।

বিদায়ী বছরে ঢাকার আদালতে যেসব আলোচিত মামলার রায় হয়েছে, তা নিয়ে তিন পর্বের সালতামামির আজ পড়ুন শেষ পর্ব।

হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় বর্বরোচিত জঙ্গি হামলা মামলায় সাতজনকে গত ২৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন, আসলাম হোসেন র্যাশ, মো. হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. আব্দুল সবুর খান, শরিফুল ইসলাম খালেক ও মামুনুর রশীদ রিপন।

২০০৯ এর ৬ (২) (অ) ধারায় মৃত্যুদণ্ড হলেও ২০০৯ এর ৭ ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড; ২০০৯ এর ৮ ধারায় প্রত্যেককে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড; ২০০৯ এর ৯ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ মামলার অপর আসামি মো. মিজানুর রহমানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। নিহত পাঁচ হামলাকারী হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

holly-artisan

ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলা দায়েরের পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক হুমায়ুন কবির। একই বছর ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

অন্যদিকে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে আটজন নিহত হন। তারা হলেন- তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

বিচার প্রক্রিয়ার পর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করেন।

holly-artisan

হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার আসামি- আসলাম হোসেন, রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলম, মামুনুর রশিদ, রাকিবুল ইসলাম রিগ্যান, শরিফুল ইসলাম, সোহেল মাহফুজ ও হাদিসুর রহমান

রিশা হত্যায় ঘাতক ওবায়দুলের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে (১৪) ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুলকে গত ১০ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। পাশাপাশি ওবায়দুলের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও হয়।

২০১৬ সালের শুরুর দিকে রিশা ও তার মা তানিয়া ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটে বৈশাখী টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে যান। এ সময় তার মা ওই দোকানের রসিদের রিসিভ কপিতে ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। ওই টেইলার্সের কর্মচারী ওবায়দুল রিসিভ কপি থেকে ফোন নম্বর নিয়ে রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতো। রিশার মা এ বিষয়ে ওবায়দুলকে সতর্ক করেন।

ওই বছরের ২৪ আগস্ট বন্ধু মুনতারিফ রহমান রাফির সঙ্গে রিশা পরীক্ষা শেষে কাকরাইল ওভারব্রিজ পার হওয়ার সময় তাকে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেয় ওবায়দুল। রিশা তা প্রত্যাখ্যান করলে ওবায়দুল তাকে ছুরিকাঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় রিশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট মারা যায় রিশা।

ছুরিকাঘাতের দিনই রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

আইনজীবীর সহকারী হত্যায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার জজ কোর্টের আইনজীবীর সহকারী মোবারক হোসেন ভূঁইয়াকে (৪৫) হত্যা মামলায় গত ২১ অক্টোবর ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

দণ্ডিতরা হলেন- মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মহুব, মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ওরফে বাদল ভূঁইয়া, আফজাল ভূঁইয়া, এমদাদুল হক ওরফে সিকরিত ভূঁইয়া, নয়ন ভূঁইয়া, ভুলন ভূঁইয়া ওরফে ভুলু, রুহুল আমিন, শিপন মিয়া, সুলতানা আক্তার, দেলোয়ার হোসেন, বিধান সন্যাসী ও নিলুফা আক্তার। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

মামলার অপর দুই আসামি তাসলিমা আক্তার (পলাতক) ও শামীম ওরফে ফয়সাল বিন রুহুলকে (পলাতক) এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। জয়নাল আবেদীন নামে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়।

মোবারক হোসেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার গোথালিয়া ভূঁইয়াবাড়ীর মৃত ইশাদ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা জজ কোর্টে আইনজীবীর ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মোবারক হোসেনের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে আসামিদের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে আসামিরা মোবারক হোসেনের পেটে বল্লম দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন মোবারকের ছোট ভাই মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ১৬ জনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

holly-artisan

রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল

২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছর ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মনির কামাল রায় ঘোষণা করেন।

আনসার সদস্য হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর শ্যামলীতে ১৭ বছর আগে ছিনতাইকারীদের গুলিতে আনসার সদস্য ফজলুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গত ৯ অক্টোবর তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাপ্পু ওরফে অন্তু, তারিকুর রহমান ওরফে শিবলী হোসেন ওরফে উজ্জ্বল ও শুক্কর আলী ওরফে সোহেল। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি শুক্কর আলীকে আরেক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০০২ সালে মোহাম্মদপুর থানার শ্যামলী এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল আ. জলিল ফরাজী ও আনসার কনস্টেবল ফজলুল হক ডিউটিতে ছিলেন। ঘটনার দিন বেলা ১টার দিকে শ্যামলীর ৩ নম্বর রোডের মাথায় কনস্টেবল আকমান হোসেন গুলির শব্দ শুনতে পান এবং গিয়ে দেখেন ফজলুল হক উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। জলিল ফরাজী ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন। আকমান হোসেনকেও ছিনতাইকারীরা রিভলবার দিয়ে গুলি করে। আকমান হোসেনও তার শর্টগান দিয়ে এক রাউন্ড গুলি করেন। ছিনতাইকারীরা জলিল ফরাজীকে গুলি করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ফজলুল হককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আকমান হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৪ সালের ১০ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার ১নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন।

রজব হত্যা : তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন

পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার নবাবপুরে রজব নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় গত ১ আগস্ট তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ৪। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডও দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রহিম ওরফে আরিফ (পলাতক), জিকু (পলাতক) ও আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে টাইগার (পলাতক)।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মন্টি (পলাতক), মিলন ওরফে চাপা মিলন (পলাতক), আকাশ ওরফে রাসেল (পলাতক), ফরহাদ হোসেন ওরফে ফরহাদ (পলাতক), সজীব আহমেদ খান (পলাতক), শহীদ চান খাদেম (পলাতক) ও মোহাম্মদ আলী হাওলাদার বাবু।

২০১১ সালের ২৪ জুলাই রাতে কোতোয়ালি থানাধীন নবাবপুরে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করতে গেলে আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে রজবকে ছুরিকাঘাত করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রজব মারা যান। ওই ঘটনায় রজবের ভাই জুম্মন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার প্রক্রিয়ার পর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ৪ এর বিচারক আবদুর রহমান সরদার রায় ঘোষণা করেন।

holly-artisan

আইনজীবীর সহকারী হত্যায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

শাশুড়িসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর চকবাজারের ইসলামবাগে শাশুড়িসহ একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি মো. আল ইসলাম জীবনকে (৩০) গত ৫ মার্চ মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

২০১৬ সালের ৪ জুলাই চকবাজারে ঝগড়া-বিবাদের একপর্যায়ে আসামির রামদার কোপে শাশুড়ি রাশিদা বেগম ও তার মেয়ে সীমা আক্তার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার দুদিন পর গুরুতর আহত শ্রাবণী আক্তার বন্যাও (রাশিদার নাতনি) মারা যান।

এ ঘটনায় মামলা করেন রাশিদার ছোট ভাই মো. শাহাবুদ্দীন। মামলা সূত্রে জানা যায়, রাশিদার মেয়ে সুমীর সঙ্গে জীবনের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আসে জুই (৫) ও সানী (২) নামে দুই সন্তান। তবে সানীর জন্মের সময় সুমী মারা যান।

সুমীর কথা মতো তার সন্তানরা রাশিদার কাছে থাকতো। সন্তানদের নিজের কাছে রাখার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন জীবন। কিন্তু আদালত রাশিদার কাছেই জুই ও সানীকে রাখার আদেশ দেন। তারপর থেকে সময়ে সময়ে জীবন তাদের দেখতে আসতেন শাশুড়ি রাশিদা বেগমের বাসায়।

রাশিদা তার মেয়ে সীমা (৩০), নাতনি বন্যা (২৩) এবং জুই ও সানীকে নিয়ে ইসলামবাগের ওই বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন জীবন শাশুড়ি রাশিদার বাসায় এসে সন্তানদের কাপড় দিতে চাইলে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে জীবন রামদা দিয়ে শাশুড়ি রাশিদাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। তখন বন্যা ও সীমা বাধা দিতে এলে তাদেরও কুপিয়ে হত্যা করেন জীবন।

মামলার তদন্তের পর বিচার প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ, অতিরিক্ত ৮ নম্বর আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

ওষুধের দোকানি মাজহারুল হত্যা : ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শিয়ালধরা বাজারের ওষুধের দোকানি মাজহারুল ইসলাম ওরফে পল্টন হত্যায় ২৪ ডিসেম্বর ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ১। তবে মামলার বাকি সাত আসামিকে খালাস দেয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- একলাছ উদ্দিন ওরফে জুয়েল, আবুল কাশেম ওরফে বাচ্চু মেম্বার, কবির মিয়া, আবুল কাশেম, বাদল মিয়া, ফারুক মিয়া, রুমা আক্তার, আবুল কালাম আজাদ ওরফে পিনু ডাক্তার, চন্দন, শুক্কুর আলী ওরফে আশ্রাফ আলী। এদের মধ্যে ফারুক মিয়া ও রুমা আক্তার পলাতক।

২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বা ১ মার্চ সকালে মাজহারুলকে তার ওষুধের দোকানে মাথা ও কপালে আঘাত করে খুন করা হয়। হত্যার পর দোকানের ভেতরে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে গামছা দিয়ে মরদেহ বেঁধে রেখে দোকানে তালা দিয়ে চলে যান আসামিরা। ঘটনার দিনই মাজহারুলের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরের বছরের ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নান্দাইল থানার পরিদর্শক জসিম উদ্দিন ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিট দাখিলের পর জব্বর মোহরী নামে এক আসামি মারা যান। পরে আদালত জব্বর মোহরীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ১৭ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন।

জেএ/এইচএ/এমএআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]