আমবাগানে পাখির বাসা : প্রশাসনের সুস্পষ্ট বক্তব্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে থাকা ‘শামুকখোল’ নামের কয়েক হাজার পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং জমির মালিক ও লিজ গ্রহীতার কে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের দেয়া প্রতিবেদন পাখিদের বিষয়ে সুস্পষ্ট না হওয়ায় আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

পাখির বাসা রক্ষায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের (ডিসির) দেয়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করার পর হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাজশাহীর ডিসির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। এসময় পাখির অভয়াশ্রম রক্ষার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায় উপস্থিত ছিলেন।

হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর এক আদেশে পাখির বাসা ভাঙার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। একইসঙ্গে, ওই গ্রামকে কেন পাখির জন্য ‘অভয়ারণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এছাড়া ওই গ্রামকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করলে আমবাগান মালিক বা ইজারাদার কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তা নিরুপন করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে রাজশাহীর ডিসি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেয়া হয়।

এ নির্দেশের পর রাজশাহীর ডিসি মো. হামিদুল হক লিখিতভাবে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকার প্রয়োজন। এই টাকা বরাদ্দে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি লেখা এই চিঠির একটি কপি গতকাল হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে আদালত জমির মালিক ও লিজ গ্রহীতার কে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে নির্দেশ দেন।

‘পাখিদের বাসা ছাড়তে সময় দেওয়া হলো ১৫ দিন’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে গতবছর ৩০ অক্টোবর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। এরপর আদালত আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর ডিসি হাইকোর্টে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে ২৫টি আমগাছে শামুকখোল পাখিরা বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে। গত চার বছর ধরেই পাখিগুলো সেখানে বাসা বাঁধছে। প্রতিবছর বর্ষার শেষে ওই আমগাছগুলোতে বাসা বেধে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফোটায়।

প্রতিবছর পাখি বাসা বাঁধার কারণে আমবাগানের মালিক ও ইজারাদার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কারণে বাগানের ইজারাদার আম ব্যবসায়ী পাখির বাসা ভেঙে গাছে ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় পাখিপ্রেমিকরা বাধা দেন।

এফএইচ/এসআর/এমকেএইচ