জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়ন মামলা : দুই আইনজীবীকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে নাশকতার জন্য অর্থায়নের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুই মামলা থেকে দুই আইনজীবীকে অব্যাহতি দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। তারা হলেন-অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন।

অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। দুই আইনজীবীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।

পরে ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম সাংবাদিকদের বলেন, তাদের নামে অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) তাদেরকে ওই দুই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর মাদরাসাতুল আবু বকর নামে একটি মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমণি পাহাড়ে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আরও পাঁচজন গ্রেফতার হয়। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব জানায়, হাটহাজারী ও বাঁশখালী থেকে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা নতুন জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সদস্য। শহীদ হামজা ব্রিগেডের গ্রিন, ব্লু এবং হোয়াইট নামে তিনটি সামরিক উইং রয়েছে। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছে।

২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরের ফয়েস লেকে একটি রেস্তোরাঁয় সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরে ১৮ আগস্ট হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ঢাকা থেকে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯), অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বিএনপি নেতা ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে।

গত বছরের ২০ আগস্ট হাটহাজারীর মামলায় ৩৩ জন আসামি ও বাঁশখালীর মামলায় ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালীম। তবে পলাতক থাকায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন।

গত বছরের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ আপিল শুনানির জন্য আবেদনটি গ্রহণ করে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে ২৬ নভেম্বর আপিল বিভাগ চার সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন।

এফএইচ/এসআর/এমকেএইচ