ঢাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ঘোষণা করা উচিত : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া এবং ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) না নিয়ে কারখানা গড়ে ওঠায় ঢাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিকাল এরিয়া) ঘোষণা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে ওয়াসার এমডির আদালত অবমাননার বিষয়ে আদেশ দেয়ার জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন আদালত।

বুড়িগঙ্গায় পানি দূষণের বিষয়ে এক রিটের সম্পূরক আবেদনের শুনানিতে বুধবার (২২ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম। শিল্প মালিক সমিতির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, বুড়িগঙ্গার দূষণরোধ নিয়ে যে মামলা চলছে সেখানে শ্যামপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিক যুক্তি উত্থাপন করছে যে, তারা এখানে যে ব্যবসা করছে, সে ব্যবসা অব্যাহত রাখার আইনগত অধিকার তাদের আছে। তারা বলছে, হাইকোর্ট এর আগে ২০১২ সালে একটি অর্ডার দিয়েছিলেন ওয়াসাকে জমি দিতে বর্জ্য শোধনাগার প্ল্যান্ট বা ইটিপি স্থাপন করার জন্য।

‘পরে ইটিপি ছাড়া অবৈধভাবে চলা শিল্পকারখানা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদফতর যখন নোটিশ দিয়েছিল, তখন সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে আসে। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগ সেটেল করে দিয়েছিল যে, পরিবেশ অধিদফতরের উচ্ছেদ নোটিশ বৈধ এবং ইটিপি ছাড়া কোনো শিল্প-কারখানা চালানো যাবে না।’

তিনি বলেন, আদালত এই শুনানির মধ্যেই বলেছিলেন, এ সমস্ত কাজ অব্যাহত থাকলে ঢাকার অবস্থাটা...বর্তমানে ঢ‍াকাকে বিশ্বের এক নম্বর দূষিত শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশ আইনে তো আছে, যদি এই রকম দুরবস্থা হয়, সেক্ষেত্রে ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিকাল এরিয়া ঘোষণা করার বিধান আছে। এখন যেহেতু ঢাকা সবচেয়ে দুষিত নগরী, তাই গোটা ঢাকা শহরটাকেই ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণার জন্য সময় এসেছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আদালতে আবেদন করবেন কি না-সাংবাদিককের এমন প্রশ্নে মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের এ আলোচনাটা (ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিকাল এরিয়া) শুনলাম। নিশ্চয়ই এর আইনগত বিষয়গুলো বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেব।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট বুড়িগঙ্গা নদী দূষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য সংশোধনাগার ছাড়া চলা ২৩১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের চিঠি পাওয়ার পর ওইসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও ডিপিডিসিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করতে সহযোগিতা দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। এই আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরিবেশ অধিদফতরের মাধ্যমে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুড়িগঙ্গার পানি দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে রিটটি করা হয়। রিটের শুনানি শেষে তিন দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০১১ সালের ১ জুন রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের শুরুতে এ রায় নিয়ে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন করে।

ওই আবেদনের পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জনস্বার্থে করা এক রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণরোধে ২০১১ সালে আদালত অনেকগুলো নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বুড়িগঙ্গার ভেতরে যেসব সুয়ারেজ লাইন আছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইন আছে সেগুলো ছয় মাসের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গার তীরে যেন ময়লা আবর্জনা ফেলতে না পারে, সেজন্য সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করতে হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এই নির্দেশনাগুলো পুরোপুরি পালন না করায় এ সম্পূরক আবেদন করা হয়।

এফএইচ/এসআর/এমএস