ড. ইউনূসের গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের দুই মামলার আসামিদের অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৫ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন গঠনের কারণে চাকরিচ্যুত করায় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের আইটি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের বিরুদ্ধে করা দুই মামলার আসামিদের অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন- ১. গ্রামীণ কমিউনিকেশন (প্রতিষ্ঠান), ২. ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা এবং ৩. উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীন।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রহিবুল আলম আসামিদের অব্যহতি প্রদান করেন।

আদালতের পেশকার নুরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ (রোববার) অভিযোগ গঠন শুনানির আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। এর আগে আসামিরা অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিচারক মামলাটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় আসামিদের অব্যাহতি প্রদান করেছেন।

গত ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের দুই কর্মচারী বদরুল আলম ও জিল্লুর রহমান মামলা দুটি করেন। তারা গ্রামীণ ব্যাংকের গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে বদরুল আলম প্রস্তাবিত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার বাদী বদরুল আলম ২০০৪ সালের এপ্রিলে ও জিল্লুর রহমান ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে স্থায়ী পদে এম আই এস অফিসার (কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কাজে যোগদান করেন। শ্রমিক হিসেবে নিজেদের সংগঠিত হওয়া ও নিজেদের কল্যাণের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

সে অনুযায়ী নিজেরাসহ অন্যান্য শ্রমিক সহকর্মীদের নিয়ে ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ (প্রস্তাবিত) নামে একটি ইউনিয়ন গঠন করেন এবং তা আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন।

২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল ট্রেড ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য মহাপরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নে আবেদন করেন। ৯ জুন তা প্রত্যাখ্যান হয়। মামলার বাদী বদরুল আলম প্রস্তাবিত ইউনিয়নের সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মামলার আসামিরা ইউনিয়নের বিষয় জানতে পারলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে এবং স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করতে থাকে।

বাদীর প্রতি এরূপ অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। আসামিদের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বেআইনিভাবে বাদীদের প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজ থেকে বিরত রাখেন। কোনো কারণ ছাড়াই বাদীদের চাকরি থেকে টার্মিনেট করেন আসামিরা।

বিষয়টি লিখিতভাবে শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালকে অবগত করেন। বাদীরা পরবর্তীতে কাজের বিষয় বহুবার যোগাযোগ ও অনুনয়-বিনয় করলেও তাদের প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আসামিরা শুধুমাত্র ইউনিয়ন গঠন করার কারণে তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করে কাজ থেকে বিরত রেখেছেন এবং বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করেছে, যাহা বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৮৬ এবং ১৯৫ (ঘ) ধারার লংঘন।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত (ISO 9001:2015) সার্টিফাইড, গ্রামীণ ব্যাংকের একমাত্র আইটি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স’ সারা বাংলাদেশে ২৫৬টি তথ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এ আইটি সেবা দিয়ে থাকে। গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে ১ হাজার কর্মী রয়েছেন।

দীর্ঘদিন যাবত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বেতন ভাতাসহ বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হওয়ায় সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। কমিউনিকেশন কর্তৃপক্ষ বারবার মৌখিক আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি। পরে গত ১৬ এপ্রিল প্রায় ৫৫০ জন কর্মী সংগঠিত হয়ে ঢাকার শ্রম অধিদফতরের ট্রেড ইউনিয়নের শাখায়, ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন’ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) ইউনিয়ন জমা দেন।

জেএ/আরএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]