সীমান্তে হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোটায় আনতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে সরকারের তিন মন্ত্রণালয় ও বিজিবি মহাপরিচালককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবী। নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছেন ওই আইনজীবী।

রোববার ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ উজ-জামান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী আরিফ হোসেন।

নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে আইনজীবী আশরাফ-উজ-জামান বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিবে সরকার। সরকারের সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সীমান্তে বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী) হাতে বাংলাদেশি হত্যা, নির্যাতন বন্ধ এবং নিহতের স্বজন ও নির্যাতিতদের জন্য ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকারে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএসএফের হাতে এক হাজার ১৪৪ বাংলাদেশি নিহত ও ১ হাজার ৩৬৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা আসকের (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৩৩ জন ও নির্যাতনে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ভারতের সঙ্গে ছয়টি দেশের সীমান্ত রয়েছে। যুদ্ধ ছাড়া ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সীমান্তে হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্য।

আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশিদের অপহরণ ও বাংলাদেশের সীমানার অভ্যন্তরে বাংলাদেশিদের গুলি করে বিএসএফ সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার’ ও ‘জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষণ’ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের যথাযথ বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি অপরাধ করলেও তার আইনগত ও বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী জানান, আবেদনে সীমান্তে নিহত ও নির্যাতিতদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র ও লিবিয়ার মধ্যে সম্পাদিত ‘লকারবি সেটেলম্যান্ট’র কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার ও নির্যাতিতদের জন্য ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

এফএইচ/এমএফ/এমকেএইচ