জামায়াত নেতা সুবহানের আপিল অকার্যকর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ্ত্যুবরণ করায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহানের (৮০) আপিল অ্যাবেটেড (অকার্যকর) ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

জামায়াত নেতা সুবহানের আপিল মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে জানান, ‘ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুস সুবহান গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন।’তখন আদালত সুবহানের আপিল মামলাটি অকার্যকর ঘোষণা করেন।

আদালতে আজ সুবহানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে মুহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার বিষয়বস্তু (আব্দুস সুবহান) আর নেই। এ কারণে আপিল বিভাগ আপিলটিকে চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘোষণা (অ্যাবেটেড) করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন সুবহান।

গত ২৪ জানুয়ারি তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি।

জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহান পাবনা-৫ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে এমপি হন তিনি।

তিনি পাকিস্তান আমলে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ছিলেন। পাবনা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মাওলানাও ছিলেন সুবহান।

২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এই প্রভাবশালী নেতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন সুবহানের আইনজীবীরা।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুবহানকে আটক করে। ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

এফএইচ/এসআর/জেআইএম