ভুল আসামির সাজা খাটার বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দুর্নীতির মামলায় মূল আসামি মো. জুয়েল রানার পরিবর্তে মো. আবদুল কাদের নামের অন্যজন সাজা খাটছেন বলে দাবি তোলা আসামি পক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি মামলাটি আগামী ৫ মার্চ শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

বিষয়টি অনুসন্ধান করে দুই সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ সুপার, বরিশালের এসবির পুলিশ সুপার, লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন শাখা এবং দুদককে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামির জামিন শুনানিতে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না, মাহজাবিন রাব্বানী দীপা, কাজী শামসুন্নাহার কনা ও ঈশিতা পারভীন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম আবদুর রউফ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুয়া ও জাল নথি দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টার করে ইউসিবিএল ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে দুই কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ২৭৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ পায় দুদক। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াহিদ ২০০৮ সালের ১১ আগস্ট শাহবাগ থানার মামলা করেন।

ওই মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়। সেখানে মো. জুয়েল রানা ৫ নম্বর আসামি। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন তদন্ত করে ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেন।

মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর পাঁচ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। এতে মো. জুয়েল রানারও সাজা হয়। তবে মো. জুয়েল রানা বিচার প্রক্রিয়ার সময় অনুপস্থিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই মামলায় জামিন চেয়ে জুয়েল রানার পক্ষে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, সাজা খাটা আসামি মো. জুয়েল রানা নয় সে মো. আবদুল কাদের। তবে মো. জুয়েল রানা ও মো. আবদুল কাদেরের পিতার নাম ও ঠিকানা একই। পিতার নাম বরিশালের বাবুগঞ্জের ছাতিয়া গ্রামের মৃত আয়নাল ঢালী।

এফএইচ/এএইচ/পিআর