কাজলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বার কাউন্সিল চেয়ারম্যানকে নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন অভিযোগকারী আইনজীবী।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু ডাক ও রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জাগো নিউজকে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক পদের প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের অসদাচরণের অভিযোগ এবং তার সনদ বাতিলের আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি। নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। অন্যথায় এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হবে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বরাবর ব্যারিস্টার কাজলের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু। তিনি কাজলের আইনজীবী সনদ বাতিলেরও আবেদন করেন। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি বার কাউন্সিলের সেক্রেটারি অভিযোগ আমলে নেন বলে জানান জুলফিকার আলী জুনু।

বার কাউন্সিল করা আবেদনে জুলফিকার আলী বলেন, দি বাংলাদশ লিগ্যাল প্র্যাক্টিশনার অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অ্যান্ড রুলস, ১৯৭২ এর চতুর্থ অধ্যায়ের ৮ ধারা অনুযায়ী কোনো আইনজীবী সনদ বহাল থাকা অবস্থায় অন্য কোনো প্রকার পেশা কিংবা ব্যবসা অথবা সরকারি চাকরিসহ অন্য কোনো চাকরি করতে পারবেন না। তবে তিনি যদি চাকরি করতে চান সেক্ষেত্রে তার আইনজীবী সনদ ও সমিতির সদস্যপদ স্থগিত করতে হবে। কিন্তু রুহুল কুদ্দুস কাজল বার কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট অর্ডার অ্যান্ড রুলস লঙ্ঘন করে আইনজীবী সনদ বহাল রেখে বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি চাকরি নিয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কূটনীতিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

‘একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বেতন ভাতা নিয়েছেন। বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তথ্য মতে, রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৯৬ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে পেশায় আছেন। এই সময়ের মধ্যে রুহুল কুদ্দুস কাজল একজন আইনজীবী হিসেবে কোনোভাবেই সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে পারেন না। তথ্য গোপন ও পেশাগত অসদাচারণের দায়ে রুহুল কুদ্দুস কাজলের আইনজীবী সনদ বাতিল ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছি’— বলেন জুলফিকার আলী।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, যারা এটা করেছেন তারা ইতিপূর্বেও বিভিন্ন জায়গায় এই অভিযোগ করেছেন। এটা এমন কিছু নয়। এটা করে তারা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না।

এফএইচ/এইচএ/পিআর